বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু গুলি, ক্ষেপণাস্ত্র বা বিস্ফোরক নয়, বৈদ্যুতিন ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার ক্ষমতাও যে বড় ভূমিকা নিতে পারে, সেই বাস্তবতার কথা মাথায় রেখেই নতুন প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে ভারত (India)। এই লক্ষ্যেই প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও (DRDO) শুরু করেছে ‘শিল্ড’ কর্মসূচি। প্রকল্পটির আওতায় এস-ব্যান্ডের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শক্তিশালী মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ প্রয়োগ করে বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের কার্যক্ষমতার উপর কী প্রভাব পড়ে, তা পরীক্ষা করাই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেন্সর, নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম-সহ গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক সিস্টেম এই পরীক্ষার আওতায় আসতে পারে।
DRDO-র নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহজে পরাস্ত হবে শত্রুপক্ষের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র:
‘শিল্ড’ প্রকল্পটি ডিআরডিওর (DRDO) টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বা প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিলের অধীনে নেওয়া হয়েছে। দেশীয় শিল্প সংস্থা, স্টার্টআপ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করাই এই তহবিলের অন্যতম লক্ষ্য। ফলে এই প্রকল্পেও বেসরকারি প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে। ডিআরডিওর পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির সাহায্যে শুধু সম্ভাব্য বৈদ্যুতিন আক্রমণের প্রভাব বোঝাই নয়, ভারতীয় সামরিক সরঞ্জাম এমন আক্রমণ কতটা সহ্য করতে পারে, সেটিও যাচাই করা যাবে। অর্থাৎ একই গবেষণার মাধ্যমে আক্রমণাত্মক সক্ষমতার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন:সেপ্টেম্বর মাসে কবে ঢুকবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা? দিনক্ষণ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে গ্যালিয়াম নাইট্রাইড বা GaN-ভিত্তিক সলিড-স্টেট পাওয়ার অ্যাম্প্লিফায়ার। উচ্চ ক্ষমতার মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তিতে এই উপাদানের ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তুলনামূলক ছোট আকারের যন্ত্রে বেশি শক্তি উৎপাদন এবং দক্ষতার সঙ্গে তা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে GaN প্রযুক্তি বিশেষ সুবিধা দিতে পারে। প্রস্তাবিত ‘শিল্ড’ ব্যবস্থায় পালসড অপারেশন এবং পরিবর্তনশীল ডিউটি সাইকেলের মতো বৈশিষ্ট্য রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ ও শক্তির মাত্রা প্রয়োগ করে বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের প্রতিক্রিয়া আলাদা আলাদাভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। দূরবর্তী অবস্থান থেকে নির্দিষ্ট মাত্রার বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করে সরঞ্জামের সহনশীলতাও পরিমাপ করা যাবে।
বর্তমান সময়ে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ায় এই ধরনের গবেষণার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ছোট আকারের ড্রোন থেকে শুরু করে একসঙ্গে একাধিক ড্রোনের হামলা—আধুনিক সংঘাতে এমন পরিস্থিতির মোকাবিলা এখন প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে প্রতিটি ড্রোন ধ্বংস করা সবসময় কার্যকর বা অর্থনৈতিক নাও হতে পারে। সেই জায়গায় শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে ড্রোনের বৈদ্যুতিন ব্যবস্থা ব্যাহত করার প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বিকল্প প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে শত্রুর রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা বা সেন্সরের মতো ইলেকট্রনিক পরিকাঠামো কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে, তারও মূল্যায়ন করা যাবে। ফলে দিকনির্দেশিত শক্তি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিগত ভিত্তি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সোনার দামে ফের স্বস্তি! রুপায়ও বদল, কলকাতায় আজকের বাজারদর জানুন
তবে ‘শিল্ড’কে এখনই কোনও প্রস্তুত যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত একটি মূল্যায়ন ও পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির কার্যকারিতা, সীমাবদ্ধতা এবং সামরিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করা হবে। প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত বৈদ্যুতিন যুদ্ধ এবং ড্রোন-বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পথ প্রশস্ত হতে পারে। পাশাপাশি একই প্রযুক্তির সাহায্যে ভারতীয় সামরিক সরঞ্জামকে বৈদ্যুতিন আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখার উপায়ও খুঁজে পাওয়া সম্ভব। সব মিলিয়ে, ‘শিল্ড’ কর্মসূচি ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের জন্য ভারতের প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে (DRDO)।













