বাংলা হান্ট ডেস্ক: অনেকদিন ব্যবহার করার পর টিভির (Television) স্ক্রিন আগের তুলনায় কিছুটা ম্লান হয়ে যাওয়া বা টিভি ধীরে কাজ করা খুবই স্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সবসময় যে টিভির হার্ডওয়্যারে সমস্যা হয়েছে, এমনটা নয়। অনেক ক্ষেত্রে টিভির কিছু ডিফল্ট সেটিংসই এর জন্য দায়ী হতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য থাকা ‘অটো পাওয়ার সেভ’ বা ‘ইকো মোড’ (Eco Mode) চালু থাকলে টিভি নিজে থেকেই স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ঘরে আলো থাকলে ছবি আরও নিষ্প্রভ মনে হয় এবং দেখার অভিজ্ঞতাও আগের মতো থাকে না। তাই টিভির স্ক্রিন হঠাৎ ডিম মনে হলে সবার আগে সেটিংসে গিয়ে এই অপশনগুলি চালু রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন না থাকলে এগুলি বন্ধ করলেই অনেক ক্ষেত্রে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস চোখে পড়ার মতো বাড়তে পারে।
টেক্কা দেবে নতুনকেও, এই ৪ সেটিংস বদলালেই ভোল পাল্টে যাবে আপনার পুরনো TV (Television)-র!
শুধু উজ্জ্বলতার সমস্যাই নয়, ছবির স্বাভাবিক মান নষ্ট হওয়ার পিছনেও টিভির একটি জনপ্রিয় ফিচার দায়ী হতে পারে। অনেক স্মার্ট টিভিতে ‘মোশন স্মুদিং’ বা কোনও কোনও ব্র্যান্ডে ‘মোশন প্লাস’ নামে একটি ফিচার থাকে। দ্রুতগতির দৃশ্যকে আরও মসৃণ দেখানোর জন্য এই প্রযুক্তি মূল ভিডিওর দুটি ফ্রেমের মাঝখানে কৃত্রিমভাবে অতিরিক্ত ফ্রেম তৈরি করে। খেলাধুলা বা কিছু দ্রুতগতির দৃশ্যে বিষয়টি সুবিধাজনক মনে হলেও সিনেমা বা সিরিজ দেখার সময় ছবির স্বাভাবিক গতি ও চেহারা বদলে যেতে পারে। অনেকের কাছে তখন অভিনেতাদের চলাফেরা অস্বাভাবিক দ্রুত বা দৃশ্যগুলি অতিরিক্ত মসৃণ বলে মনে হয়। এই ধরনের সমস্যা হলে পিকচার সেটিংসে গিয়ে মোশন বন্ধ করা যায়। আবার সিনেমা নির্মাতারা যেভাবে কনটেন্ট তৈরি করেছেন, তার কাছাকাছি অভিজ্ঞতা পেতে অনেক টিভিতে (Television) থাকা ফিল্মমেকার মোড-ও ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: হয়েছিলেন কটূক্তির শিকার! অদম্য জেদে IPS হয়ে নজির গড়লেন KBC-তে ১ কোটি টাকা জেতা মোহিতা
স্মার্ট টিভির ক্ষেত্রে আর একটি বিষয় নজরে রাখা দরকার, তা হল ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা। অনেক স্মার্ট টিভিতে Automatic Content Recognition বা ACR প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই ফিচারের মাধ্যমে টিভিতে কী ধরনের কনটেন্ট দেখা হচ্ছে, তা শনাক্ত করে সেই তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধরনের বিজ্ঞাপন বা সুপারিশ দেখানো হতে পারে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডে এই ফিচারের নামও আলাদা। যেমন LG টিভিতে এটি ‘লাইভ প্লাস’ নামে এবং Samsung-এর ক্ষেত্রে ‘Viewing Information Service’ নামে পাওয়া যেতে পারে। যাঁরা নিজেদের দেখার অভ্যাস সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করতে চান না, তাঁরা টিভির Privacy বা Settings বিভাগে গিয়ে এই ফিচারটি বন্ধ করতে পারেন। এতে শুধু গোপনীয়তা কিছুটা বেশি নিয়ন্ত্রণে থাকবে না, টিভির উপর অতিরিক্ত প্রসেসিংয়ের চাপও কমতে পারে।
আর যাঁরা Fire TV Stick বা অন্য কোনও স্ট্রিমিং ডিভাইস ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্যও রয়েছে একটি সহজ কৌশল। যদি টিভির নিজস্ব Smart TV ফিচার ব্যবহার না করেন, তাহলে মূল টিভিটিকে সবসময় Wi-Fi-এর সঙ্গে সংযুক্ত রাখার প্রয়োজন নেই। টিভি থেকে ইন্টারনেট সংযোগ সরিয়ে দিয়ে HDMI-তে লাগানো স্ট্রিমিং স্টিকের মাধ্যমে সমস্ত অনলাইন কনটেন্ট চালানো যেতে পারে। এর ফলে টিভির নিজস্ব সিস্টেমে আসা অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন, বড় ব্যানার কিংবা নানা ধরনের কনটেন্টের সুপারিশ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে পুরনো স্মার্ট টিভির ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবা কমে যাওয়ায় সিস্টেম কিছুটা হালকা লাগতে পারে এবং স্ট্রিমিংয়ের মূল কাজটি স্টিকের উপরেই চলে যাবে।

তাই টিভি পুরনো হয়ে গিয়েছে ভেবে নতুন সেট কেনার আগে একবার তার সেটিংসগুলি খতিয়ে দেখা যেতে পারে। ইকো মোড বা অটো পাওয়ার সেভিংয়ের মতো অপশন স্ক্রিনের উজ্জ্বলতায় প্রভাব ফেলছে কি না, মোশন স্মুথিং ছবির স্বাভাবিক গতি বদলে দিচ্ছে কি না এবং ACR-এর মতো ফিচার ব্যক্তিগত দেখার তথ্য সংগ্রহ করছে কি না—এসবই একবার দেখে নেওয়া ভাল। একইসঙ্গে স্ট্রিমিং স্টিক ব্যবহার করলে টিভির নিজস্ব Wi-Fi সংযোগ প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা যায়। তবে সব টিভির মেনু বা ফিচারের নাম এক নয়, তাই সেটিংস পরিবর্তনের আগে নিজের মডেলের নির্দেশিকা দেখে নেওয়াই নিরাপদ। সঠিকভাবে কয়েকটি অপশন বদলে নিলেই অনেক সময় টিভির (Television) ছবি, ব্যবহারযোগ্যতা এবং দেখার অভিজ্ঞতায় বেশ কিছুটা পরিবর্তন আনা সম্ভব।













