বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাত্র ১৪ বছর বয়সে হাতে ছিল সীমিত অর্থ আর একটি পুরনো ল্যাপটপ। সেই সম্বল নিয়েই বিহারের (Bihar) চম্পারণের বাড়ি ছেড়ে রাজস্থানের কোটা পাড়ি দিয়েছিল আদর্শ কুমার। লক্ষ্য ছিল একটাই—নিজের পড়াশোনা এবং ভবিষ্যতের জন্য এমন একটি সাফল্যের (Success Story) পথ তৈরি করা, যেখানে আর্থিক প্রতিকূলতা তার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। আজ ১৯ বছর বয়সে সেই লড়াইয়ের ফল হাতেনাতে পাচ্ছে সে। কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩.৫ কোটি টাকার সম্পূর্ণ বৃত্তি পেয়েছে আদর্শ। টিউশন ফি থেকে শুরু করে থাকা, খাওয়া, ভিসা, স্বাস্থ্যবিমা-সহ শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত যাবতীয় খরচ এই স্কলারশিপের আওতায় থাকবে। দোহায় অবস্থিত এডুকেশন সিটি ক্যাম্পাসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়াদের সঙ্গে এবার নতুন অধ্যায় শুরু করবে চম্পারণের এই তরুণ।
আদর্শ কুমারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
তবে এই সাফল্যে পৌঁছনোর পথ মোটেই সহজ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই আর্থিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে আদর্শকে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে আরও ভালো সুযোগের আশায় বাড়ি ছেড়ে কোটা চলে গেলেও সেখানে গিয়ে সামনে আসে নতুন সমস্যা। নামী কোচিং প্রতিষ্ঠানের চড়া ফি দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে প্রচলিত পথে এগোনোর বদলে নিজেই শেখার সুযোগ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। বিভিন্ন স্টার্টআপ এবং তৃণমূল স্তরের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে শুরু করে। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর এই চেষ্টা পরবর্তীকালে তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় (Success Story)।
আরও পড়ুন: মরক্কোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা বন্ধন আরও মজবুত ভারতের! যৌথ উৎপাদন ও সামরিক প্রশিক্ষণে বাড়ছে অংশীদারিত্ব
সেই সময়েই আদর্শ শুরু করে ‘স্কিলজো’ নামে একটি উদ্যোগ। মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে পড়ুয়ারা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষা, কেরিয়ার এবং বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কে সঠিক পরামর্শ পেতে পারে। ধীরে ধীরে উদ্যোগটি বড় হতে থাকে এবং প্রায় ২০ হাজার পড়ুয়া এতে নথিভুক্ত হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি এমন একটি উদ্যোগ গড়ে তোলার কারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরেও নজরে আসে আদর্শ। সে গুগল ইয়ুথ অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পায় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা কর্মসূচিতেও অংশ নেয়। অর্থাৎ নিজের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নেওয়ার বদলে প্রতিটি সমস্যাকেই নতুন কিছু শেখার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছে সে (Success Story)।
আদর্শের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির তালিকায় অন্যতম বড় সাফল্য ২০২৫ সালের গ্লোবাল স্টুডেন্ট প্রাইজ। ১৪৮টি দেশ থেকে জমা পড়া প্রায় ১১ হাজার মনোনয়নের মধ্যে থেকে এই সম্মানের জন্য নির্বাচিত হয় সে। এই পুরস্কার শুধু তার ব্যক্তিগত কৃতিত্বকেই স্বীকৃতি দেয়নি, বিহারের একটি ছোট শহর থেকে উঠে আসা তরুণের কাজকে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও পরিচিত করে দিয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার তার উদ্যোগ, নেতৃত্বের ক্ষমতা এবং সামাজিক প্রভাবই তাকে এই প্রতিযোগিতায় আলাদা জায়গা করে দেয় বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রযুক্তিগত গোলযোগে ব্রিটেনে বিমান বিপর্যয়!বাতিল ১,০০০-এর বেশি ফ্লাইট, চরম দুর্ভোগ যাত্রীদের
তবে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছনোর আগেও আদর্শকে অপেক্ষা করতে হয়েছে কঠিন সময়ের জন্য। ভর্তির আবেদন করে প্রায় ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাখ্যান পেয়েছিল সে। একের পর এক দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যখন সুযোগ প্রায় শেষের দিকে, তখনই কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত ই-মেল—ভর্তি এবং সম্পূর্ণ বৃত্তির প্রস্তাব। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ রয়েছে আদর্শের। বিহারে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং সরকারি প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই নীতি ও প্রশাসন নিয়ে তার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাই এই বৃত্তি শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য (Success Story) নয়, ভবিষ্যতে মানুষের জীবনযাত্রায় নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার স্বপ্নের দিকেও আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।













