বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সামনেই আসছে দুর্গাপুজো। হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন। তার আগেই এই দুর্গাপুজো নিয়ে রাজ্যভাষীর উদ্দেশ্যে বিশেষত কমিউনিস্টদের উদ্দেশ্যে কড়া নির্দেশ দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বাম সমর্থকদের তুমুল সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এবার থেকে শারদউৎসব নয়, দুর্গাপুজোকে দুর্গাপুজো বলেই সম্মোধন করতে হবে।
একশ্রেণীর অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থী জামা গায়ে দিয়ে সনাতনীদেরকে আক্রমণ করে : শুভেন্দু অধিকারী
বামপন্থীদের বিরুদ্ধে এদিন সনাতন ধর্মকে নানা ভাবে নানা কায়দায় টার্গেট করার অভিযোগ এনেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি দাবী করেছেন, ‘একদম হিসাব করে, কায়দা করে, টার্গেট করে একশ্রেণীর অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থী জামা গায়ে দিয়ে সনাতনীদেরকে আক্রমণ করে। আমরা আস্থা পালন করি, আপনারা যারা মুসলিম আছেন, অন্য ধর্মের লোক আছেন। বিশাল লামা আছেন বুদ্ধিস্ট। যে যার ধর্ম পালন করেন। শুকরা মুন্ডা আছেন, যে যার ধর্ম পালন করেন।’
তারপরেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘কে বাঁধা দেয়? কিন্তু একদম বেছে বেছে গেরুয়াকে টার্গেট করা হয় কেন? কপালের টিপ পড়লে টার্গেট করবেন, মাথায় শিখা রাখলে তাকে টার্গেট করবেন, গলায় তুলসির মালা পরলে টার্গেট করবেন। সনাতন ধর্মকে আপনারা কালচারাল মনে করেন।’
রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে কটাক্ষের সুরে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বললেন, ‘দুর্গাপুজো বলেন না, শারদ উৎসব।’ তারপরেই তিনি নির্দেশ দিয়ে বললেন, ‘আমি সব দুর্গাপুজো কমিটিকে বলব, এই তথাকথিত কমিউনিস্টরা পুজোর স্টল করতে গেলে শারদ উৎসবের জায়গায় যদি দুর্গাপুজো না লেখে একটা স্টলও করতে দেবেন না। আপনাদের এই যে বীজ এখানে পুতেছেন বাংলায়। এই নকশাল থেকে শুরু করে, এই বীজকে তুলে ফেলার সঠিক সময় এটা। তিনবার যুদ্ধ হয় হবে। রেডি তো সবাই?’ এরপরেই ভরা বিধানসভার কক্ষে সমবেত কণ্ঠে ‘ভারত মাতা কি জয়!’ বলে জয়ধ্বনি দেওয়া হয়।
রাজ্যের দুই প্রাক্তন শাসক দল সিপিএম-তৃণমূল উভয়কেই একযোগে আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বললেন, ‘গরিবের টাকা মেরে আড়াই হাজার পার্টি অফিস বানিয়েছেন। গোটা গোষ্ঠীকে চাকরি দিয়েছেন। এক-একটা সিপিএমের নেতার বাড়ির কুড়িটা করে লোক চাকরি করে। সব তলিকা বের করবো। শুধু ১৫ বছর নয়, ৩৪ বছর যোগ করে হিসাব হবে।’ তারপরে আরও একবার হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘শারদ উৎসব! দুর্গাপুজো বলা যাবে না! শারদ সংখ্যা! এসবের শেষ দেখা হবে।’













