বাংলাহান্ট ডেস্ক: নয়াদিল্লির (New Delhi) ভারত মণ্ডপম এখন ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের (BRICS Summit 2026) প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে বসতে চলেছে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এবারের আয়োজক ভারত (India)। ফলে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে সম্মেলনস্থল থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শুধু আয়োজনের পরিকাঠামো নয়, গোটা অনুষ্ঠানের ভাবনায়ও ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আর সেই ভাবনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে ব্রিকস ২০২৬-এর লোগোতে। রঙিন পদ্মের মাঝে ‘নমস্তে’-র প্রতীক ব্যবহার করে ভারত একদিকে নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরেছে, অন্যদিকে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলনের (BRICS Summit 2026) প্রতীকে রয়েছে ভারতের বড় বার্তা ও তাৎপর্য:
ব্রিকসের এবারের লোগোটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর লোগো, থিম এবং ব্রিকস ২০২৬-এর সরকারি ওয়েবসাইট প্রকাশ করেন। এই প্রতীকটি একটি উন্মুক্ত নকশা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয়েছিল। লোগোর নকশায় ভারতীয় পরিচয়ের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তি, আলোচনা এবং সম্মিলিত উন্নয়নের ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের ২০২৬ সালের ব্রিকস (BRICS Summit 2026) সভাপতিত্বের মূল ভাবনা—‘Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability’—এর সঙ্গেও লোগোর নকশার গভীর যোগ রয়েছে। অর্থাৎ ঐতিহ্যকে ধরে রেখেই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে এই প্রতীকে।
আরও পড়ুন: পারমাণবিক শক্তি থেকে বাণিজ্য! ‘বন্ধু’ পুতিনের সঙ্গে বৈঠক মোদীর, কোন কোন বিষয়ে হল আলোচনা?
লোগোটির দিকে তাকালে প্রথমেই চোখে পড়ে ভারতের জাতীয় ফুল পদ্মের আদল। ভারতীয় সংস্কৃতিতে পদ্ম দীর্ঘদিন ধরেই পবিত্রতা, সহনশীলতা এবং সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সেই পদ্মকেই ব্রিকসের লোগোর মূল কাঠামো হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু পদ্মের আকৃতিই নয়, এর চারপাশে থাকা উজ্জ্বল রঙের পাপড়িগুলিও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির বৈচিত্র্য এবং তাদের সম্মিলিত শক্তিকে বোঝাতেই বিভিন্ন রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ একাধিক দেশ, একাধিক সংস্কৃতি ও ভিন্ন ভিন্ন অর্থনীতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা জোটের মধ্যে ঐক্যের ভাবনাটিই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে লোগোর নকশায়।
আর পদ্মের একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে এই লোগোর সবচেয়ে নজরকাড়া অংশ—‘নমস্তে’। ভারতীয় অভিবাদনের এই পরিচিত ভঙ্গি শুধু অতিথিদের স্বাগত জানানোর প্রতীক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সম্মান, সৌহার্দ্য, উষ্ণতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভাবনা। ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনা ও সহযোগিতার পথ খোলা রাখার বার্তাই যেন এই ‘নমস্তে’-র মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বনেতাদের ভারতীয় আতিথেয়তায় স্বাগত জানানোর ভাবনাটিও এতে প্রতিফলিত। ফলে লোগোটি নিছক একটি নকশা নয়, বরং ভারতের সংস্কৃতি ও কূটনৈতিক ভাবনার একটি দৃশ্যমান প্রকাশ।

আরও পড়ুন: ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কায় বদলাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি! ব্রিকস দেশগুলির উদ্দেশ্যে বিশেষ আহ্বান জয়শঙ্করের
সব মিলিয়ে ব্রিকস ২০২৬-এর লোগোয় ভারতীয় ঐতিহ্য, আধুনিকতার ভাবনা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বার্তাকে একই সুতোয় বাঁধা হয়েছে। রঙিন পদ্ম সদস্য দেশগুলির বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করছে, আর তার কেন্দ্রে থাকা ‘নমস্তে’ তুলে ধরছে সম্মান, অন্তর্ভুক্তি ও সহযোগিতার ভাবনা। সম্মেলনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই প্রতীক রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ভারত যে শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করছে না, বরং নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ‘মানবতাকেন্দ্রিক’ দৃষ্টিভঙ্গিকেও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চাইছে, ব্রিকসের এই লোগো সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।













