পাকিস্তান-বাংলাদেশের উড়ল ঘুম! জিনপিং ভারতে পৌঁছনোর আগেই বন্ধুত্বের বার্তা দিল চিন

Updated on:

Updated on:

Beijing sends a positive message on India-China relations amidst Jinping's visit to Delhi.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ভারত-চিন (India-China) সম্পর্কের ক্ষেত্রে ফের কিছুটা ইতিবাচক বার্তা সামনে এল। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) দিল্লি (Delhi) সফরের আবহে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী সুর শোনা গেল চিনের তরফে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের চিনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং জানিয়েছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যে সমস্ত মতপার্থক্য রয়েছে, তা গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সামলানোর চেষ্টা করা হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারত ও চিনের সম্পর্ককে শুধুমাত্র বর্তমান সমস্যার নিরিখে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে বেজিং। দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি একে অপরের উন্নতিতে সহায়ক অংশীদার হিসেবে কাজ করার কথাও উঠে এসেছে তাঁর বার্তায়।

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ভারত-চিন (India-China) সম্পর্কের ইতিবাচক বার্তা বেজিংয়ের

রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে ফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে চলেছে। কাজান ও তিয়ানজিনে দুই রাষ্ট্রনেতার আগের বৈঠকের পর এটি তাঁদের পরপর তৃতীয় সাক্ষাৎ বলে উল্লেখ করেছেন জু ফেইহং। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছিলেন, শি জিনপিং শনিবার সপারিষদ নয়াদিল্লিতে আসছেন এবং ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন। দীর্ঘ সময় পর চিনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফর হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের সম্পর্ক যখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে চাপের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তখন সফরের আগে বেজিংয়ের এমন বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে (India-China)।

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কমল সোনার দাম! জানুন আজকের লেটেস্ট রেট

২০১৯ সালে শেষবার ভারত সফর করেছিলেন শি জিনপিং। এরপর সীমান্ত পরিস্থিতি ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধাক্কা আসে। গালওয়ান সংঘর্ষের রক্তক্ষয়ী স্মৃতি, ডোকলাম নিয়ে পুরনো টানাপোড়েন এবং অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে কূটনৈতিক চাপানউতোরের কারণে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা কীভাবে বাড়ানো যায়, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে চিনা রাষ্ট্রদূতের ‘মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সামলানো’র বার্তাকে অনেকেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও বাস্তবে দুই দেশের মধ্যে জটিল বিষয়গুলির সমাধান কতটা এগোয়, সেটাই এখন দেখার।

এই আবহে শি জিনপিংয়ের ভারত সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নিয়েও রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। চিনের অবস্থান এবং শি-র ব্রিকস সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের আগের হিসাব-নিকাশ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে আগে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, জিনপিং দিল্লি পৌঁছানোর পর সেই সমীকরণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে কোনও দেশের সিদ্ধান্তকে সরাসরি অন্য দেশের কূটনৈতিক অবস্থানের ফল হিসেবে দেখার আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সরকারি বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা জরুরি। ফলে ঢাকার জন্য এই সফর কতটা কূটনৈতিক অস্বস্তির, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা থাকলেও বিষয়টি এখনও মূলত বিশ্লেষণের পর্যায়েই রয়েছে।

Beijing sends a positive message on India-China relations amidst Jinping's visit to Delhi.

আরও পড়ুন: রিপোর্ট পেশে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা! বকেয়া DA নিয়ে বৈঠকের দিন পেছনোয় ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মীরা

সব মিলিয়ে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চে মোদি-শি বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতির নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে। ভারত ও চিন (India-China) বিশ্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি এবং এশিয়ার দুই বড় শক্তি হওয়ায় তাঁদের সম্পর্কের গতিপথের প্রভাব আঞ্চলিক রাজনীতির বাইরেও পড়তে পারে। বিশেষ করে দুই দেশ যদি সীমান্ত-সহ বিভিন্ন মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পথে এগোয়, তাহলে তার দিকে ওয়াশিংটনেরও নজর থাকবে। এখন প্রশ্ন একটাই—শি-র এই সফর কি ভারত-চিন সম্পর্কে সত্যিই নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, নাকি বন্ধুত্বের বার্তার পাশাপাশি পুরনো সমস্যাগুলিই ফের আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে? উত্তর মিলবে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠক এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপে।