বাংলা হান্ট ডেস্ক: জ্বালানির ক্ষেত্রে নতুন সঙ্কট! মূলত, সৌদি আরবে একটি প্রধান তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে (Oil Supply) উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদি আরব (Saudi Arabia) যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত তার পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি (Pipeline) পুনরায় চালু করতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ প্রভাবিত হতে পারে। ইয়ানবু বন্দর থেকে রফতানি অব্যাহত রাখতে সৌদি আরব তেলের মজুত সীমিত হয়েছে। এমতাবস্থায়, ইতিমধ্যেই ব্যয়বহুল জ্বালানি ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
বিশ্বে তেলের নতুন সঙ্কট! বন্ধ সৌদির পাইপলাইন (Oil Supply):
মাত্র ৫ থেকে ৭ দিনের তেলের মজুত অবশিষ্ট আছে: জানিয়ে রাখি যে, রয়টার্সের এক রিপোর্ট অনুসারে, ড্রোন হামলার জেরে গত শুক্রবার সৌদি আরব তার বিশাল পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। এই পাইপলাইনটি আরব উপদ্বীপের মরুভূমির মধ্য দিয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহণ করে। রিপোর্ট অনুসারে, সৌদি আরব এই পথে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লক্ষ ব্যারেল তেল পাঠাত। যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। পাইপলাইনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, ইয়ানবুতে এখন মাত্র ৫ থেকে ৭ দিন রফতানি চালিয়ে যাওয়ার মতো তেল মজুত রয়েছে। তবে, সৌদি আরবের কাছে মিশরের লোহিত সাগরের বন্দর আইন সুখনা এবং ভূমধ্যসাগরের বন্দর সিদি কেরিরে কিছু মজুত রয়েছে।

মেরামতে ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে: উল্লেখ্য যে, সৌদি আরব এখনও এই পাইপলাইনের ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং এটি ফের চালু করার সময়সীমা জানায়নি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন সূত্র ভিন্ন ভিন্ন অনুমান প্রকাশ করেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, মেরামতে ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। অন্য একটি সূত্র বলেছে, মেরামত দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে এবং কাজ চলাকালীন পাইপলাইনটি আংশিকভাবে তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু করতে পারে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ানবুর ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ব্যারেল। যেখানে আইন সুখনা এবং সিদি কেরির যথাক্রমে ১৮ মিলিয়ন এবং ২০ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত তেল সংরক্ষণ করতে পারে। তবে, এই মজুত এখনও পুরোপুরি পূর্ণ হয়নি এবং পাইপলাইনটি চালু না হলে তা ধীরে ধীরে কমে যাবে।
আরও পড়ুন: মার্কিন ডলারের বিরুদ্ধে বাজল দামামা? BRICS দেশগুলি খুঁজছে নতুন উপায়, কী পরিকল্পনা ভারতের?
তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে: জানিয়ে রাখি যে, সামগ্রিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ আরও কমে গেলে তা ইতিমধ্যেই চলমান গ্লোবাল সরবরাহ সঙ্কটকে আরও গভীর করতে পারে। এই সঙ্কট ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দামকে রেকর্ড পর্যায়ে নিয়ে গেছে এবং একাধিক দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে। পাইপলাইনে হামলার পাশাপাশি, ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা সৌদি আরবের তেল শিপমেন্টের ওপরও হুমকি দিয়েছে এবং গত শুক্রবার লোহিত সাগরের মোহনায় একটি দ্বীপ দখল করেছে বলে জানা গেছে। যেটি তেল সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই, সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন শীঘ্রই চালু না হলে, সীমিত মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় বিশ্ব তেলের বাজার আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: একইদিনে জোড়া সাফল্য! হকি জুনিয়র এশিয়া কাপ জিতল ভারতের পুরুষ ও মহিলা দল
তেল সরবরাহ ইতিমধ্যেই হ্রাস পেয়েছে: ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি তথা IEA অনুসারে, গত অগাস্ট মাসে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ ৩ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগর দিয়ে তেল রফতানি কমে যাওয়ায় সৌদির রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। IEA-এর মতে, এই বছর বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লক্ষ ব্যারেল বা প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। এদিকে, যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২.২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু, এখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ৬০ থেকে ৯০ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহণ হয়। সৌদি আরব OPEC-কে জানিয়েছে যে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যেখানে তাদের তেল উৎপাদন ছিল প্রতিদিন ১.০৯ কোটি ব্যারেল সেখানে গত অগাস্ট মাসে তা কমে প্রতিদিন ৬২ লক্ষ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।













