বাংলা হান্ট ডেস্ক : শহরের রাস্তায় এবার গণপরিবহণ নিয়ে তৈরি হতে পারে বড় সমস্যা। টোটো ও অটোর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাসের যাত্রী কমে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসকর্মীদের একাংশ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সোমবার থেকে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথে বাস না চালানোর (Bus Strike) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্মীরা। তাঁদের এই ধর্মঘট অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
বর্ধমানে মিনি বাস ধর্মঘট (Bus Strike)
পূর্বাশা বাসস্ট্যান্ড থেকে আলিশা বাসস্ট্যান্ড এবং পূর্বাশা থেকে পূর্তভবন পর্যন্ত বাস পরিষেবায় বড় প্রভাব পড়তে পারে। এই দুটি রুটে প্রায় ৮০টি মিনিবাস চলাচল করে। ফলে কর্মীদের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শহরের ব্যস্ত রুটগুলিতে যাত্রী পরিবহণের চাপ সরাসরি গিয়ে পড়বে টোটো, অটো-সহ অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থার উপর।
বাসকর্মীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট রুটে চলার ক্ষেত্রে টোটো-অটোর উপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ নেই। তাঁদের দাবি, বাসেস্ট্যান্ডে টোটো ঢুকে পড়ছে। ফলে বাসের আয় ক্রমশ কমছে। চালকদের বক্তব্য, সংসার চালানোর মতো উপার্জনও হচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে বাসচালক সঞ্জয় দাস বলেন, “বাসের থেকে এখন টোটোর দাপট এত বেশি, ওরাই এখন আমাদের বাসের সামনে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। কোথাও কোন নিয়ম না মেনেই চলছে এই অবস্থা। সারাদিনে ২০০ টাকাও লাভ থাকে না। আমাদের সংসার চলছে না। তাই আমরা বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তবে কর্মীদের এই পদক্ষেপকে নিজেদের সংগঠনের সিদ্ধান্ত বলে মানছে না বাস মালিকপক্ষ। বর্ধমান টাউন সার্ভিস বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ পাল জানিয়েছেন, “প্রায় ৮০টি মিনিবাস রয়েছে। শহর জুড়ে অত্যধিক টোটো চলাচলের কারণে বাসের ব্যবসা প্রায় শেষের দিকে বলে দাবি। সরকারের উচিত অবৈধ টোটো চলাচলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া। আমরা এই বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিইনি।”
বর্ধমান মিনিবাস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বাস কর্মীদের। এটা তাঁদের সিদ্ধান্ত, আমাদের সংগঠনের সিদ্ধান্ত নয়। তবে টোটোর এই অত্যাচার বন্ধ করার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”এই পরিস্থিতি অবশ্য শুধু বর্ধমানের নয়। একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে আসানসোল শিল্পাঞ্চলেও। সেখানে মোট ১৮২টি মিনিবাস রুট রয়েছে। কিন্তু টোটো ও অটোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে ইতিমধ্যেই প্রায় ৬০টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি।

আরও পড়ুন : দিঘায় ঘুরতে যাওয়ার আগে জেনে রাখুন! আজ থেকে বদলে গেল এই নিয়ম
বর্ধমানে কর্মীদের সিদ্ধান্ত দীর্ঘায়িত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে শহরের সাধারণ মানুষের উপর। প্রতিদিনের অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে পড়ুয়া এবং স্থানীয় বাসিন্দা—অনেককেই তখন বিকল্প পরিবহণ খুঁজতে হবে। টোটো-বাসের সংঘাতের এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন দ্রুত কোনও সমাধানসূত্র বের করতে পারে কি না, এখন সেদিকেই নজর।













