বাংলা হান্ট ডেস্ক : নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার ফের জমায়েত নন্দীগ্রামে। বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে আয়োজিত হয় সংকল্প সভা। সেখানেই দলের নির্বাচনী লড়াইয়ের রূপরেখার পাশাপাশি নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে একাধিক বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
নন্দীগ্রামে কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ?
সংখ্যালঘু ভোটারদের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি জানি আপনারা আমাকে, বিজেপিকে ভোট দেন না। শুধু সংখ্যালঘুদের একটা আবেদন করতে চাই। আপনাদের সামনে একটা সুযোগ এসেছে। আপনারা সরকারের সঙ্গে থাকবেন, কি থাকবেন না। যদি সরকারের সঙ্গে থাকতে চান, হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চান, কাজ নিতে চান। তবে ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে আপনাদের পরীক্ষা। আপনারা পরীক্ষায় পাশ করবেন, নাকি ফেল করবেন…তা আপনাদের উপর। কিন্তু বাকিটা আমরা জিতছি, জিতব।”
নির্বাচনের ফল নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসও স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মেলে, নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে তিনি কতটা নিশ্চিত। প্রচারের জন্য বারবার এলাকায় আসার প্রয়োজন হবে না বলেও দাবি করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আশা করি নির্বাচনী প্রচারে আমাকে আসতে হবে না, শুধু একবার ভোট দেওয়ার জন্য আসতে হবে।”
এদিনের সভায় রাজনৈতিক কর্মীদের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে থাকা এবং বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু। বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিষয়েও পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে প্রার্থী হিসেবে আমি যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, প্রত্যেকটা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করার দায়িত্ব আমার…আমি এই প্রতিশ্রুতি নন্দীগ্রামের জনতাকে দিতে চাই। নন্দীগ্রামের জেলখাটা, কেস খাওয়া নেতাকে এই প্রতিশ্রুতি দিতে চাই–যে প্রত্যেককে সরকারি ও দলগত ভাবে মর্যাদা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব আমার। আমি সেই দায়িত্ব পালন করছি ও করব। নন্দীগ্রামে সমস্ত বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলা থেকে সরানোর দায়িত্ব আমার, সেই দায়িত্ব পালন করব।”

আরও পড়ুন : মিলল স্বস্তি! তৃণমূলের কীর্তি আজাদকে নিয়ে বিরাট নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট
তবে শুধু রাজনৈতিক বার্তাতেই থামেননি তিনি। নন্দীগ্রামের মানুষের আর্থিক সুরক্ষা, আবাসন এবং কর্মসংস্থান নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। নন্দীগ্রামের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য, “নন্দীগ্রামের বিপুল জনতার কাছে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনারা নিশ্চিন্তে থাকবেন। নন্দীগ্রামে প্রতিটা পরিবারের হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ- এই অঙ্গীকার আমি পূর্ণ করব। ইতিমধ্যেই ৬৭ হাজার মা-বোনকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাঠানো হয়েছে। ৮০০০ অর্ধসমাপ্ত বাড়িকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। ১৩,৭০০-র বাড়ির জন্য নতুন কিস্তির টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকলের কাজ হবে। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন।” আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে এই বার্তাগুলির কতটা প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।













