বাংলা হান্ট ডেস্ক: আধার কার্ড (Aadhaar Card) না থাকায় রেশন বন্ধ হয়ে গিয়েছে, দিনমজুর বাবার। পাশাপাশি ছেলের ওজন প্রায় দেড় কুইন্টাল ছুঁই ছুঁই। এই প্রচন্ড শরীরে এখন বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দিনমজুর বাবার জীবনে। কারণ সেই শরীরটুকু বাঁচিয়ে রাখতে যে পরিমাণ খাবার বা চিকিৎসার প্রয়োজন তা করতে পারছেন না। সম্প্রতি এমনই ছবি দেখা দিল ইসলামপুরে পমাইপুরের মোস্তফা পাড়ায়।
বন্ধ রেশন, অসুস্থ ছেলে আধারের অভাবে দিশাহারা বাবা (Aadhaar Card)
ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে প্রথম দিকে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার জন্য ছুটেছিলেন আবুল। কিন্তু চিকিৎসার খরচ, যাতায়াত এবং ছেলের ক্রমশ বেড়ে চলা শারীরিক সমস্যার সঙ্গে আর পাল্লা দিতে পারেনি অভাবের সংসার। আধার কার্ড (Aadhaar Card) না থাকায় একসময় থেমে যায় চিকিৎসাও।

আরও পড়ুন: ডিমের এই রান্না একবার খেলে বারবার বানাবেন! রইল দো-পেঁয়াজার সহজ রেসিপি
জানা যায়, পমাইপুর মোস্তফাপাড়ার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমানের বয়স ২৮ বছর। বাবা আবুল হাসান দিনমজুর। একসময় আর পাঁচটা শিশুর মতোই স্বাভাবিক ছিলেন মোস্তাফিজুর। খেলাধুলা করতেন, হাঁটতেন, কথাবার্তাও বলতেন। বছর সাতেক বয়সে মাকে হারানোর পর থেকেই ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে তাঁর জীবন। সময়ের সঙ্গে অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে শরীরের ওজন।
পরিবারের দাবি, প্রতিদিন প্রায় দেড় কেজি চালের ভাত এবং পাঁচশো গ্রামেরও বেশি ময়দার রুটি খেতে হয় তাঁকে। রেশন বন্ধ হওয়ার পর সেই বিপুল পরিমাণ খাবারের জোগান দিতে গিয়ে আরও চাপে পড়েছে পরিবার।
মোস্তাফিজুরের বাবা আবুল হাসান বলেন, ছেলেটাকে এই অবস্থায় দেখে ভীষণ কষ্ট হয়। সরকারি সাহায্য তো দূরের কথা, যে কয়েকটা পরিষেবা পেত, আধার কার্ড না থাকায় সেগুলিও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এখনও ছেলের আধার কার্ড হয়নি। দু’বছর ধরে রেশন বন্ধ। এখন শুনছি প্রতিবন্ধী ভাতাটাও বন্ধ হয়ে যাবে। টাকার অভাবে ছেলের ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারিনি। আমারও বয়স হয়েছে। ছেলে একা কিছুই করতে পারে না (Aadhaar Card)।













