বাগবাজার সর্বজনীনের কমিটি নিয়ে শেষ হল মামলা, নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তে সিলমোহর হাইকোর্টের

Published on:

Published on:

Calcutta High Court verdict resolves problem of Bagbazar Sarbojanin Durga Puja
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর আগেই বড় স্বস্তি উত্তর কলকাতার বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসবে। ১০৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই পুজোর পরিচালন কমিটি নিয়ে যে আইনি টানাপোড়েন চলছিল, কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) রায়ে আপাতত তার অবসান হল। কমিটি গঠনের যে প্রক্রিয়াকে ঘিরে আপত্তি উঠেছিল, সেটিকেই বৈধ বলে মেনে নিয়েছে উচ্চ আদালত। ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া নির্দেশই বহাল থাকল।

বাগবাজার সার্বজনীনের কমিটি প্রসঙ্গে হাইকোর্ট (Calcutta High Court)

বাগবাজারের পুজো এবং ক্লাব পরিচালনার দায়িত্বে ১৪ সদস্যের ম্যানেজিং কমিটি থাকার নিয়ম রয়েছে। সেই কমিটি নির্বাচনের জন্য গত ৩০ অগস্ট ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল। আদালতের তরফে নিযুক্ত দুই বিশেষ পর্যবেক্ষকের তত্ত্বাবধানেই সম্পূর্ণ হয় ভোটপর্ব। ভোটার তালিকায় ৭৭ জনের নাম থাকলেও নির্বাচনে অংশ নেন ৬৬ জন।

তবে ভোট মিটতেই ফলাফল নিয়ে দেখা দেয় অপ্রত্যাশিত জটিলতা। সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুই ভাই গৌতম নিয়োগী ও ভাস্কর নিয়োগী সমান ভোট পাওয়ায় কাউকেই সরাসরি বিজয়ী ঘোষণা করা যায়নি। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় কার্যকরী সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও। ১২টি কার্যকরী সদস্য পদের মধ্যে চারজন প্রার্থীর ভোটসংখ্যা সমান হয়ে যায়। কোষাধ্যক্ষের পদটি অবশ্য এই সমস্যা থেকে মুক্ত ছিল।

সমান ভোটের কারণে আটকে থাকা পদগুলির নিষ্পত্তির জন্য নিম্ন আদালত কাস্টিং ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন পরিচালন কমিটি তৈরি করার কথাও বলা হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি ক্লাব সদস্য রবিশঙ্কর সেনগুপ্ত। তিনি হাইকোর্টে মামলা করেন। মামলাটি শুনতে গিয়ে বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন না করে সেই নির্দেশই বহাল রেখেছেন। রবিশঙ্কর সেনগুপ্তের করা আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। অর্থাৎ সমান ভোট পাওয়া পদগুলিতে কাস্টিং ভোটের মাধ্যমেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার হবে।

Calcutta High Court verdict resolves problem of Bagbazar Sarbojanin Durga Puja

আরও পড়ুন :পুজোর সময় কমলা পোশাক-কমলা টুপি! স্বেচ্ছাসেবকদের ড্রেসকোড নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

এই মামলার জেরে এবারের পুজোর প্রস্তুতি নিয়েও তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। পরিচালন কমিটি নিয়ে আইনি নিষ্পত্তি না হলে উৎসবের সাংগঠনিক কাজকর্মেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল।হাইকোর্টের রায়ের পর সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হল। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করে আসা বাগবাজার সর্বজনীনের পুজো এবার আইনি জটের বাইরে গিয়ে প্রস্তুতিতে মন দিতে পারবে।