বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ‘ভুয়ো’ ডাক্তার (Fake Doctors) খোঁজার অভিযানে বেরিয়ে দেখা গেল স্বাস্থ্য দফতরেই রয়েছে দুই ‘ভুয়ো’ চিকিৎসক। হ্যাঁ ঠিকই দেখছেন। জাল শংসাপত্র দেখিয়ে কার্যত সরকারি ডাক্তার হয়ে গিয়েছেন কেউ কেউ। এখন প্রশ্ন হল কিভাবে সরকারি ব্যবস্থাপনার অন্দরে প্রবেশ করল এরা? তবে কি যাচাই প্রক্রিয়াতেই আসল গলদ?
রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর থেকেই মিলল দুই ‘ভুয়ো’ ডাক্তার
সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসকদের নিয়োগ প্রক্রিয়াই প্রশ্নের মুখে। যেখানে একাধিক ধাপে যাচাই হওয়ার পর তবেই নিয়োগ হওয়ার কথা সেখানে দক্ষিণ ২৪ পরগণার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভায় দুজন কর্মরত ভুয়ো ডাক্তার পাওয়া গিয়েছে। তাঁরা যে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেওয়া সার্টিফিকেট উভয়েই দুয়েক বছর আগেই জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন। যেমনটা জানা যাচ্ছে, দুজনের একজনের নাম উত্তম মাইতি ও আরেকজনের নাম শেখ ইউনুস হাসান।
সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত পাঁচজন ‘চিকিৎসক’-এর হদিস মিলেছে, যাঁদের রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে ডাক্তারি ডিগ্রি সবটাই জাল। যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের মেডিক্যাল কাউন্সিল বা WBMC এর অন্দরের কিছু লোক এই দুর্নীতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠছে। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর।
আরও পড়ুনঃ ‘মমতা ব্যানার্জি চাইতেন না রাইটার্স রেডি হোক!’, প্রধানমন্ত্রী মোদীর জন্মদিনে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ
নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
কিন্তু এমন জাল নথি দেখিয়ে নিয়োগের সময় কেন যাচাই পর্বেই আটকে দেওয়া গেল না তাঁদের? উত্তর খুঁজতে দক্ষিণ ২৪ পরগণার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারীর কাছে যাওয়া হলে তিনি জানান, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের নিয়োগ জেলা থেকেই পরিচালিত হয়। নিয়োগের সময় অভিযুক্ত দুজনের যে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার জমা করা হয়েছিল তা ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল (WBMC) এ নথিভুক্ত ছিল। সেই কারণেই নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
গোটা বিষয়টি সামনে আসার পর দুজনকেই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। যার উত্তর তো দূর, দুজনের কারোর হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তাঁদের চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের পক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়ে গিয়েছে। এদিকে WBMC এর সভাপতি সুদীপ্ত রায়ের মতে, ধৃত বাকি তিনজনের মত এই দুইজনও বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত আছে দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মেডিকেল কাউন্সিলে নাম তুলিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, ঘটনার সূত্রপাত ঘটে পূর্ব বর্ধমানের একটি মর্মান্তিক শিশুমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেখানকার এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে এক শিশুর মৃত্যু হয়। তদন্তে নেমে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকরা স্তম্ভিত হয়ে যান। তাঁরা জানতে পারেন যে, অভিযুক্ত ‘চিকিৎসক’ শেখ সাইদুল হক আদতে কোনও চিকিৎসকই নন। তাঁর পেশ করা ডাক্তারি ডিগ্রি সম্পূর্ণ ভুয়ো। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, ওই ব্যক্তি শুধু রোগী দেখতেন না, একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে রীতিমতো অধ্যাপনাও করতেন’।













