‘যোগীর থেকেও বেশি অত্যাচারী, মেয়েদের কোনো নিরাপত্তা নেই!’ বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

Published on:

Published on:

Mamata Banerjee
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) প্রতীক নিয়ে বিবাদের মাঝেই শুক্রবার দুই শিবিরে বিভক্ত তৃণমূলের দুই দলকে আপাতত নতুন নাম এবং প্রতীক দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। জানিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনার পর এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখান থেকেই এই প্রতীক বিতর্ক প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেসকে বুকে আঁকড়ে ধরেই বাঁচবো : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূল সুপ্রিমোর কথায়, ‘আমি বাংলার মা-মাটি মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলব আপনারা আমাদের সাথে থাকুন, পাশে থাকুন। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসকে বুকে আঁকড়ে ধরেই বাঁচবো। যেটা বাংলার বুকে তৈরি হয়েছে সারা ভারতবর্ষের টিহ্যাঁজন্য। দেশের অন্যান্য অংশগুলি মিলিয়ে। গায়ের জোরে বিজেপি আজ যা করছে প্রণামী বাক্স লুট থেকে শুরু করে, রাম জন্মভূমি লুট থেকে শুরু করে,মেয়েদের কোন নিরাপত্তা নেই এই জিনিস কখনও, কোনোদিনও আমাদের এখানে হয়নি।’

অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রসঙ্গ তুলে মমতা এদিন বললেন, ‘অনেকে যোগীকে বলে, এ তো যোগীর থেকে আরও বেশী অত্যাচারী হয়ে গিয়েছে। এমনকি দীর্ঘদিনের কাগজগুলোকে গিয়ে থ্রেট করছে। বাধ্য করছে সংবাদমাধ্যমকে। আনন্দবাজারে গিয়ে গেরুয়ার রং লাগিয়ে দিয়ে এসেছিল। গেরুয়া পবিত্র রং। ওটা মন্দিরে থাকে, ওটা পায়ে মাড়িয়ে যাওয়ার জন্য নয়, ওটাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। ওটা আমাদের ন্যাশনাল ফ্ল্যাগের রং। রং বদলে দিলে, নাম বদলে দিলে কি হৃদয় বদলানো যায়?’

আরও পড়ুনঃ রোগীদের সুষ্ঠু পরিষেবাই মূল লক্ষ্য! বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবসে বিশেষ অনুষ্ঠান ডিসান হাসপাতালে

এখানেই শেষ নয় এরপর দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রসঙ্গ তুলে মমতা বললেন, ‘ইন্দিরা গান্ধী কংগ্রেসে থাকাকালীন তিনবার সিম্বল চেঞ্জ হয়েছিল। কাজেই এটা মনে রাখবেন মানুষ যেটা গ্রহণ করে সেটাই মানুষের সিম্বল হয়। সুতরাং আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি,  থাকবো। এবং আমাদের দলের অস্তিত্বকে নিয়েই আমরা বাঁচবো।
টেম্পোরারি হয়তো টাইম বিয়িং ওরা জিতেছে বলে, এত অত্যাচার এজেন্সিকে দিয়েও করাচ্ছে।’

রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আরও বললেন, ‘প্রতিদিন এসটিএফ, প্রতিদিন সিবিআই, প্রতিদিন ইডি, প্রতিদিন সিআইডি কে নয়। সব ভয়। ভয় ইন, ভরসা আউট। সো বিজেপি উইল বি আউট ইন এ শর্ট পিরিয়ড, আই বিলিভ সো। আমি এটাই আপনাদের কাছে বলতে চেয়েছিলাম। ‘

সবশেষে তাঁর সংযোজন, ‘আর লাস্ট কথা বাংলার মানুষের জন্য বলি। আমি সুকান্তের একটি কোটেশান, একটা কবিতা বলবো। আমার কবিতা নয়। আমার অনেক কর্মী মারা গিয়েছেন, অনেক মহিলারা নির্যাতিত হয়েছেন। অনেক মা বনেরা আজকে বিপদে আছে, শঙ্কায় আছে। মানুষের মনে হাসি নেই। হকাররা বেকার হয়ে গেছে, দোকানদাররা আজকে জীবন-যাপন কি করে করবে ভাবছেন। পুজো কমিটিগুলো জোর করে দখল করেছে। সব জায়গায় গেরো, আমি সুকান্তর কথায় বিশ্বাস করি।’

আরও পড়ুনঃ ট্রাফিক সংক্রান্ত অভিযোগ জানানো আরও সহজ! নতুন টোল ফ্রি নম্বর চালু রাজ্যের

এদিন আরো একবার একসাথে লড়াই করার কথা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে অরবিন্দ কেজরিয়াল – এঁরা সকলেই নাকি টুইট করেছেন। তারা সবাই মিলে একসাথে ফাইট করবেন বলে দাবী করেছেন মমতা। তৃণমূল নেত্রী এদিন জোর গলায় বললেন, তাঁরা কেউই বিজেপির কাছে সারেন্ডার করবেন না। যে করেই হোক।

তৃণমূল সুপ্রিমো আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁরা আর যাকে সাপোর্ট করুন না কেন বিজেপিকে কোনো ভাবেই সাপোর্ট করবেন না। তাঁর কথায়, ‘দ্য ডার্টি, দ্য ন্যাস্টি, দ্য ট্রিকি, দ্য হাপিং পাপিং ড্রাগনস, দ্য হাইলোডেড ভাইরাস ইন্টেনশনালি । এবং ওদের মোটিভেশন খুবই পরিষ্কার। ইনটেনশনও খুবই পরিষ্কার।’