বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ২০০৭ সালের মামলার জেরে ২০২৬ সালে জেলে কংগ্রেসের নন্দীগ্রামের (Nandigram) প্রার্থী মিলন প্রধান (Milan Pradhan)। প্রার্থী হওয়ার জন্যই পুরোনো মামলা পুনরুদ্ধার করে জেলে পাঠানো হল তাকে? বাকি দলের নেতা থেকে কর্মীদের মনেও এই প্রশ্ন এসেছে নিশ্চই। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন আইএসএফ (ISF) নেতা নওশাদ সিদ্দিকী (Nawshad Siddiqui)।
মিলন প্রধান গ্রেফতারিতে নওশাদ সিদ্দিকীর প্রতিক্রিয়া
এদিন নওশাদ জানান, মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী প্রথমে প্রত্যাহার হলো আপনার নন্দীগ্রাম থেকে। দ্বিতীয়বার প্রত্যাহার হলো দ্বিতীয় প্রত্যাহার হলো আপনার রেজিনগর থেকে। দেখুন ব্যাপারটা হচ্ছে আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের চরম বিরোধী ছিলাম এখনো আছি। যে অন্যায় কাজগুলো বিগত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস করেছে, শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্থান সম্প্রীতি সবটাকে ধ্বংস করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরেও বলছি এই ধরনের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়া গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়।
প্রশ্ন হচ্ছে কেন প্রার্থী প্রত্যাহার করছে? যে প্রার্থী দাঁড়াচ্ছে সে প্রত্যাহার করার জন্য কি দাঁড়াচ্ছে? একাধিক কারণ থাকতে পারে। দলের অন্তর্কলহ থাকতে পারে, সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকতে পারে। সর্বোপরি শাসক দলের একটা চাপ থাকতে পারে। রেজিনগরে যিনি প্রার্থী মমতা মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের যিনি প্রার্থী হয়েছেন তিনি তো বলেই ফেললেন, যে তার কর্মীদেরকে চাপ দেওয়া হচ্ছে, ফলে তারা কাজে নামছে না। এটা গণতন্ত্রের জন্য কি ভালো? এটা কোনভাবেই গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। গণতন্ত্রে যত বেশি পার্টিসিপেশন আসবে তত গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকবে। এটা শাসকের অবশ্যই এনসিওর করা দরকার।
আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে জেল থেকেই ভোটে লড়বেন মিলন প্রধান, বার্তা কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের
এখানেই শেষ নয়! তিনি আরও বলেন, একদিকে কংগ্রেসের পার্থীকে গ্রেপতার করা হলো। প্রথমে দেখলাম কি ভোটারধিকার মানুষের কেড়ে রাখা হলো। তারপরে দল বিভাজন করা হলো। তারপরে প্রতীক ফ্রিজ মানে সিম্বল ফিস করা হলো। তারপরে সিম্বল অলরেডি ১০ই মার্চ ২০২৬ সালে এই বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আইএসএফ (ISF) এর জন্য অলটমেন্ট যেটা হয়েছিল সেটা অন্য একটা দলকে দিয়ে দিল। একটা সে রাতারাতি রিকগনাইজ দল হয়ে গেল। মানে রেজিস্টার পার্টি রাতারাতি হয়ে গেল। কিন্তু সেটা তো নয়। ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস নামে কোন রেজিস্ট্রেশন নাই, আমি যতটুকু জানি। কিন্তু সে রাতারাতি হয়ে গেল।
বর্তমান সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে নাওশাদ বলেন, এই যে খেলা চলছে এটা কোনভাবেই উচিত নয়। ২০০৭ সালের নাকি একটা মামলা দিয়ে এটা করছে। আমি একটা কথাই বলব। শাসক তো ২০০ এরও অধিক সিট পেয়ে আছে। যদি এই দুটি সিট হেরে যায় শাসকের কি কোন অসুবিধা হবে? যে দায়িত্ব শাসক পেয়েছে সেটা কি সম্পূর্ণ করতে পারছে? করতে পারছে না! বাজেট পেশ হয়েছে আজকে প্রায় পাঁচ মাস হলো। খোঁজ নিয়ে দেখুন বাজেটে যদি ৩০% কাজ হয়, তাহলে আপনি আমাকে বলবেন করতে পারেনি এই পাঁচ মাসে।
আর কদিন বাকি আছে? এটা আট মাসের বাজেট। আবার চলে আসবে। আর কদিন বাকি আছে? তাহলে কাজ করছে না। উল্টে শুধু মমতা ব্যানার্জী যে কাজটা করেছিল এই শাসক সেটা শুরুতেই শুরু করে দিয়েছে। সব আমার আমার আমার আমার এতে ক্ষতি হবে বিরোধী না রাখলে মমতা ব্যানার্জী এটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, সেটা কিন্তু আগামী দিন এই শাসককে টের পেতে হবে। শাসক যে খেলায় মেতে উঠেছে, যদি এটা বন্ধ না করে তৃণমূল কংগ্রেসের এখন যা অবস্থা হচ্ছে তার থেকে ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে। গণতান্ত্রিক পক্ষে মানুষ জবাব দেবে’। এছাড়া আর কি কি বললেন তিনি? দেখে নিন ভিডিওতে।













