বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের (India) রেলস্টেশনগুলিতে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও পরিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে রেল (Indian Railways) মন্ত্রক। সম্প্রতি সংসদে পেশ হওয়া CAG-এর রিপোর্টে রেলস্টেশনের পরিকাঠামো এবং যাত্রী পরিষেবার একাধিক খামতি সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে পানীয় জলের মান নিয়ে রিপোর্টের তথ্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ৫১২টি নন-সাবার্বান রেলস্টেশনে করা অডিটে দেখা গিয়েছে, ৪৫৮টি স্টেশনে অন্তত একটি প্রয়োজনীয় যাত্রী পরিষেবার ঘাটতি রয়েছে। শুধু তাই নয়, ছ’টি জোনের ৫৯টি স্টেশনে পানীয় জলের ব্যাকটেরিয়াল পরীক্ষা করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বা PAC রেল মন্ত্রকের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
প্রত্যেক স্টেশনে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের বিষয়ে বড় নির্দেশ পেল রেল (Indian Railways)
পানীয় জলের বিষয়টি আরও উদ্বেগের হয়ে উঠেছে কয়েকটি স্টেশনের কুলারের নমুনায় ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়ায়। CAG-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সাদার্ন রেলের কোয়েম্বাটোর ও পালাক্কড় জংশন, দক্ষিণ-মধ্য রেলের হায়দরাবাদ, সেন্ট্রাল রেলের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, ভিওয়ান্ডি রোড, কল্যাণ ও লোনাভলা এবং পূর্ব রেলের মধুপুর স্টেশনের কুলারের জলের নমুনায় ই-কোলাই পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ সালে একাধিক স্টেশনের কলের জলের নমুনাতেও টোটাল কোলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়েছিল। অর্থাৎ সমস্যা শুধু একটি-দু’টি স্টেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, জল পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের গোটা ব্যবস্থাটিকেই আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে (Indian Railways)।
আরও পড়ুন:ভারী বৃষ্টিতে চিন্তা বাড়িয়েছে ভূমিধস ও হড়পা বান! এরই মাঝে ভূমিকম্প ভুটানে
এই রিপোর্ট সামনে আসার পরই রেল মন্ত্রকের কাছে জবাবদিহি চেয়েছে PAC। কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপালের নেতৃত্বাধীন কমিটি জানিয়েছে, দেশের মতো বিশাল রেল নেটওয়ার্কে প্রতিটি স্টেশনে নজরদারি রাখা কঠিন—এই যুক্তি যাত্রীদের নিরাপত্তা বা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। পরিশুদ্ধ পানীয় জল কোনও বাড়তি সুবিধা নয়, যাত্রী পরিষেবার অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার অগ্রগতির রিপোর্ট কমিটির সামনে পেশ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার বিষয়টি কোনওভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে PAC।
তবে CAG রিপোর্ট প্রকাশের পর রেল মন্ত্রকও বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। রেলওয়ের তরফে জানানো হয়েছে, স্টেশনগুলিতে জল সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘Tank to Tap’ পদ্ধতিতে নতুন ফিল্টারেশন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ২০ হাজার জায়গায় এই ধরনের ফিল্টারেশন ও মনিটরিং ব্যবস্থা বসানোর কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে জল কুলারও রয়েছে। পাশাপাশি জলাধারের নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ, উৎস এবং সরবরাহের জায়গায় নিয়মিত জল পরীক্ষা এবং কেন্দ্রীয় স্তরে নজরদারির ব্যবস্থাও জোরদার করার কথা জানিয়েছে রেল। জল সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়মিত প্রকাশের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশেই তৈরি হবে অত্যাধুনিক সুখোই যুদ্ধবিমান! প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ক্রমশ আত্মনির্ভর হচ্ছে ভারত
রেল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহণ ব্যবস্থা। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন এবং তাঁদের একটা বড় অংশ দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করেন। ফলে স্টেশনে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকা যাত্রী পরিষেবার একেবারে প্রাথমিক শর্তগুলির মধ্যে পড়ে। CAG-এর অডিটে শুধু জল নয়, বসার জায়গা, শৌচালয়, জল কুলার, প্ল্যাটফর্মের পরিকাঠামো-সহ একাধিক মৌলিক পরিষেবার ঘাটতিও ধরা পড়েছে। ৫১২টি পরীক্ষিত স্টেশনের মধ্যে মাত্র ৫৪টিতে নির্ধারিত সমস্ত মৌলিক পরিষেবা নিয়ে কোনও ঘাটতি পাওয়া যায়নি। এবার PAC-এর নজরে পানীয় জলের বিষয়টি আসায় আগামী দিনে রেল মন্ত্রক কী কী পদক্ষেপ নেয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার বাস্তব ফল কতটা দেখা যায়, সেদিকেই নজর থাকবে (Indian Railways)।














