বাংলাহান্ট ডেস্ক: আগস্টে চড়চড় করে বেড়েছিল চিনির দাম (Sugar Prices)। খুচরো বাজারে কোনও কোনও জায়গায় কেজি প্রতি চিনির দাম প্রায় ৬৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। উৎসবের মরসুম সামনে থাকায় দাম নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতিতে কিছুটা বদল এসেছে। প্রায় ১০ শতাংশ কমে বর্তমানে খুচরো বাজারে চিনির দাম কেজি প্রতি ৫৮.৫ টাকার আশপাশে নেমেছে। এই পরিস্থিতিতেই দেশের বাজারে চিনির সরবরাহ ও দামের ভারসাম্য বজায় রাখতে মজুত সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র।
উৎসবের মরসুমে চিনির দামে (Sugar Prices) লাগাম টানতে মজুতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের:
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার থেকে সংস্থাগুলি ১৫ দিনের বদলে ৩০ দিনের প্রয়োজনের সমপরিমাণ চিনি মজুত রাখতে পারবে। অর্থাৎ এক মাসের চাহিদা মেটানোর মতো চিনি হাতে রাখার সুযোগ মিলবে। তবে এই বাড়তি মজুতের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্তও রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ দিনের নির্ধারিত সীমার বেশি চিনি মজুত করতে হলে সেই চিনি অবশ্যই নির্দিষ্ট আমদানি ব্যবস্থার আওতায় আসতে হবে। ফলে সব ধরনের চিনি কিনে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত মজুত করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: আর নয় কোনও অজুহাত! প্রত্যেক স্টেশনে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের বিষয়ে বড় নির্দেশ পেল রেল
বিশেষ করে অ্যাডভান্স অথরাইজেশন স্কিম অথবা ট্যারিফ রেট কোটা (TRQ)-র আওতায় আমদানি করা চিনি দিয়েই ১৫ দিনের অতিরিক্ত মজুতের সীমা পূরণ করা যাবে। অন্যদিকে, খোলা বাজার থেকে কেনা চিনির ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ ওপেন মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা চিনি সর্বোচ্চ ১৫ দিনের প্রয়োজন অনুযায়ী মজুত রাখা যাবে। ফলে নতুন নিয়মে মজুতের সুযোগ বাড়লেও বাজার থেকে সরাসরি কেনা চিনির ক্ষেত্রে সংস্থাগুলিকে পুরনো সীমার মধ্যেই থাকতে হবে।
উৎসবের মরশুমের আগে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর আগেই একাধিক পদক্ষেপ করেছিল কেন্দ্র। বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ৮ লক্ষ টন চিনি রপ্তানিরও অনুমতি দেওয়া হয়। এবার মজুতের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিক পদক্ষেপেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, একদিকে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা, অন্যদিকে পাইকারি বাজারে হঠাৎ চাহিদা বাড়লে যাতে সংস্থাগুলির হাতে প্রয়োজনীয় মজুত থাকে, তা নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: SIR-এ বাদ পড়া ৮২% ভোটারই লড়ছেন নাম ফেরাতে! সুপ্রিম কোর্টে প্রকাশ পেল বড় সংখ্যা
কেন্দ্রের বক্তব্য, বাজারে চিনির সরবরাহ, দাম এবং পাইকারি চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রাখতেই এই নতুন নিয়ম করা হয়েছে। এক মাসের মজুতের সুযোগ থাকায় সংস্থাগুলির হাতে অতিরিক্ত সরবরাহ থাকবে, তবে খোলা বাজারের চিনির ক্ষেত্রে ১৫ দিনের সীমা বহাল থাকায় নির্বিচারে মজুত করার সুযোগও থাকছে না। ফলে আগামী দিনে উৎসবের মরশুমে চিনি সরবরাহ ও দামের উপর এই সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর থাকবে ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতাদের।














