তুষারধসে থেমে গেল শৃঙ্গজয়ের স্বপ্ন! নেপালের মানাসলু অভিযানে মৃত্যু কৃষ্ণনগরের পর্বতারোহীর

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: প্রতিকূল আবহাওয়া, তুষারঝড়, একের পর এক তুষারধস—সব মিলিয়ে নেপালের (Nepal) মানাসলুতে (Manaslu) তখন পরিস্থিতি যথেষ্ট বিপজ্জনক। আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় বহু পর্বতারোহী উচ্চ শিবির থেকে নীচে নেমে আসছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অভিযান থামাতে চাননি কৃষ্ণনগরের পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতি গুহ (Dhrubojyoti Guha)। পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ মানাসলুর চূড়ায় পৌঁছনোর স্বপ্নে গাইড শেরপাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই অভিযানই হয়ে উঠল তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা। প্রবল তুষারধসে ক্যাম্প-৩ এলাকায় চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ধ্রুবজ্যোতির। তাঁর সঙ্গে থাকা শেরপা গাইড ফুরসেম্বা শেরপারও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নেপালের মানাসলু (Manaslu) অভিযানে গিয়ে মৃত্যু কৃষ্ণনগরের পর্বতারোহীর

কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা ধ্রুবজ্যোতি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। কর্মসূত্রে তিনি জার্মানিতে থাকতেন এবং একটি নামী বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করতেন। তবে পেশার বাইরে তাঁর সবচেয়ে বড় নেশা ছিল পর্বতারোহণ। বিভিন্ন পাহাড়চূড়ায় অভিযান চালানোর পর এবার তাঁর লক্ষ্য ছিল ৮,১৬৩ মিটার উচ্চতার মানাসলু (Manaslu) জয় করা। সেই লক্ষ্যেই কয়েক দিন আগে অভিযান শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু শৃঙ্গে ওঠার পথ যত এগিয়েছে, ততই কঠিন হয়েছে পরিস্থিতি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মানাসলুর সামিট রুট তৈরি করতে গিয়ে আগেই একাধিকবার তুষারধসের মুখে পড়েছিল রোপ-ফিক্সিং দল। ক্যাম্প-৩-এর উপরের অংশে তুষারধসে ফিক্সড রোপ এবং বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ব্রিকস দেশে ভারতের ধামাকা! ৩৪ শতাংশ বাড়ল রফতানি, সবথেকে এগিয়ে চিন

পরিস্থিতি সামলাতে পরে অতিরিক্ত শেরপা দল পাঠানো হয় এবং ফের রুট তৈরির কাজ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ১৮ সেপ্টেম্বর রোপ-ফিক্সিং দল মানাসলুর চূড়ায় পৌঁছে সামিট রুট খুলে দেয়। সেই পথ ধরেই শৃঙ্গজয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ধ্রুবজ্যোতি এবং ফুরসেম্বা। তাঁরা ক্যাম্প-৩-এর একটি তাঁবুতে ছিলেন। কিন্তু শনিবার রাতে আচমকাই ওই এলাকায় তুষারধস নামে। মুহূর্তের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বরফের চাপে তাঁবুটি সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায়। এরপর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে উদ্বেগ ছড়ায়। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ক্যাম্প-৩-এর দিকে রওনা দেয় এবং শুরু হয় তল্লাশি।

দীর্ঘ খোঁজের পর তুষারের নীচে চাপা পড়া তাঁবুটির সন্ধান মেলে। প্রায় সাত ফুট তাজা বরফ সরিয়ে উদ্ধারকারীরা তাঁবুর ভিতর থেকে ধ্রুবজ্যোতি এবং ফুরসেম্বার দেহ উদ্ধার করেন বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁদের দেহ বেস ক্যাম্পে নামিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযাত্রীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আবহাওয়া ক্রমশ খারাপ হয়ে যাওয়ায় মানাসলুর বিভিন্ন উচ্চ শিবির থেকে অনেক পর্বতারোহী নীচে নেমে আসছিলেন। সেই সময় ধ্রুবজ্যোতি ও তাঁর শেরপা গাইড দ্রুত সামিট অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে ক্যাম্প-৩-এর দিকে এগিয়েছিলেন। কিন্তু পাহাড়ের আবহাওয়ার আচমকা পরিবর্তন তাঁদের সেই যাত্রাকে থামিয়ে দেয়।

Mountaineer from Krishnanagar dies during Manaslu expedition in Nepal.

আরও পড়ুন: NPS-এ রিটায়ারমেন্ট ফান্ডের পাশাপাশি মিলবে ৩০ লক্ষের হেলথ কভার! গাইডলাইন জারি করল PFRDA

মানাসলু (Manaslu) এমনিতেই বিশ্বের অন্যতম কঠিন পর্বতারোহণের গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। ৮,১৬৩ মিটার উচ্চতার এই শৃঙ্গের পথে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এবং তুষারধস অভিযাত্রীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। চলতি মরশুমেও এই পর্বতশৃঙ্গে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই চূড়ায় পৌঁছনোর স্বপ্ন দেখেছিলেন কৃষ্ণনগরের ধ্রুবজ্যোতি। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার হয়েও পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে বারবার টেনে নিয়ে গিয়েছে দুর্গম শৃঙ্গে। কিন্তু মানাসলুর চূড়া আর ছোঁয়া হল না তাঁর। তুষারের বিশাল স্তরের নীচে থেমে গেল এক বাঙালি পর্বতারোহীর স্বপ্নের অভিযান।