বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অষ্টম বেতন কমিশনে (8th Pay Commission) এখন বেতন বাড়ার অপেক্ষায় সরকারি কর্মচারীরা। নতুন বেতন কাঠামোয় বেসিক পে কতটা বাড়বে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ওপর। এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ২.৭৫ এবং ৩.৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ধরে সম্ভাব্য বেতনের হিসেব সামনে এসেছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) কাজ কতদূর?
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের নতুন বেতন কাঠামো তৈরির জন্য অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন করা হয়েছে। কমিশনের নির্ধারিত ১৮ মাসের মেয়াদের মধ্যে ১০ মাসের বেশি ইতিমধ্যেই কেটে গিয়েছে। বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে এই কমিশন কাজ করছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরেই বদলাবে বেসিক পে
সহজভাবে বললে, বর্তমান বেসিক পেকে নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা দিয়ে গুণ করেই নতুন বেসিক পে হিসেব করা হয়। সেটিই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। ষষ্ঠ বেতন কমিশনে এই ফ্যাক্টর ছিল ১.৮৬। সপ্তম বেতন কমিশনে তা বেড়ে হয় ২.৫৭। এবার মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার খরচ বাড়ায় বিভিন্ন কর্মী ও পেনশনভোগী সংগঠন ৩ থেকে ৪ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়েছে। তবে সরকার এখনও কোনও সংখ্যা চূড়ান্ত করেনি। কমিশন কর্মী সংগঠন, অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছে।
২.৭৫ ও ৩.৫ হলে কত হবে বেসিক পে?
সম্ভাব্য হিসেব অনুযায়ী, বর্তমান বেসিক পে ১৮০০০ টাকা হলে –
- ২.৭৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে: ৪৯৫০০ টাকা
- ৩.৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে: ৬৩০০০ টাকা
আবার লেভেল ৬-এ ৩৫৪০০ টাকা বেসিক পে ২.৭৫ ফ্যাক্টরে ৯৭৩৫০ টাকা এবং ৩.৫ ফ্যাক্টরে ১২৩৯০০ টাকা হতে পারে। লেভেল ১০-এ ৫৬১০০ টাকা বেসিক পে ২.৭৫ ফ্যাক্টরে ১৫৪২৭৫ টাকা এবং ৩.৫ ফ্যাক্টরে ১৯৬৩৫০ টাকা হতে পারে।
১০ বছর অন্তর বদলায় বেতন কাঠামো
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন কাঠামো সাধারণত ১০ বছর অন্তর বদলানো হয়। তাই অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) সুপারিশ আগামী এক দশকের বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে উপরের হিসেব শুধুই বেসিক পে নিয়ে। DA, বাড়িভাড়া ভাতা, যাতায়াত ভাতা-সহ অন্যান্য টাকা যোগ হলে মোট মাসিক বেতন আলাদা হবে।

আরও পড়ুনঃ দুর্গাপুজোয় এবার নতুন নিয়ম, বদলাচ্ছে প্রতিমা থেকে বিসর্জন, জেনে নিন ৭টি বিষয়
২০২৭ সালে রিপোর্ট আসার সম্ভাবনা
২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন করা হয়। এরপর দিল্লি, চণ্ডীগড়, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, লাদাখ-সহ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আলোচনা করেছে কমিশন। আশা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মে-জুন মাস নাগাদ চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়তে পারে। তাই এখন ২.৭৫ বা ৩.৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ধরে করা হিসেবকে শুধুই সম্ভাব্য হিসেব হিসেবে দেখতে হবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।














