বাংলা হান্ট ডেস্ক : নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের (Milan Pradhan) আইনি পরিস্থিতি আরও জটিল হল। ভোটগ্রহণ ৬ অক্টোবর। তার ঠিক আগের দিন পর্যন্ত অর্থাৎ ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে হলদিয়া মহকুমা আদালত। ফলে নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জেলেই থাকতে হচ্ছে কংগ্রেস প্রার্থীকে।
হাইকোর্টের দিকে তাকিয়ে মিলন প্রধান (Milan Pradhan)
২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার একটি খুনের মামলাকে কেন্দ্র করেই সোমবার এই নির্দেশ দিয়েছে হলদিয়া মহকুমা আদালত। একই সময়ে আরও একটি পুরনো মামলায় মিলনকে কাঁথি মহকুমা আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। খেজুরি থানায় দায়ের হওয়া সেই অস্ত্র মামলায় জেল থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে সশরীরে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে।
তার বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি মামলা রয়েছে। খুনের পাশাপাশি খুনের চেষ্টা, জমায়েত এবং লুটপাটের মতো অভিযোগও রয়েছে ওই মামলাগুলিতে। গত শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর ১৯ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম থানার তিনটি মামলায় মিলনকে হলদিয়া মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছিল। সেদিন আদালত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল।
এরপর সোমবার খেজুরি থানার মামলায় তাঁকে কাঁথি আদালতে হাজির করার কথা ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই নন্দীগ্রাম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের হওয়ায় একই দিনে দুই জায়গায় শারীরিক ভাবে হাজিরা দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই কারণে হলদিয়া উপ-সংশোধনাগার থেকেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কাঁথি আদালতের শুনানিতে অংশ নেন মিলন।অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম সংক্রান্ত মামলায় ফের হলদিয়া আদালতের নির্দেশ আসে। শুনানি শেষে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজত বহাল রাখা হয়। ভোটের আগের দিন পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকায় নির্বাচনী প্রচারে তার প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মিলনের আইনজীবী হাই কোর্টে আবেদন করে মিলনের বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গ্রেফতারির ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। তবে জেলবন্দি হলেও ভোটের ময়দান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি মিলন।

আরও পড়ুন : দুর্গাপুজোয় বাড়তি ট্রেন! দক্ষিণ-পূর্ব রেলের স্পেশাল পরিষেবা কোন রুটে, জেনে নিন
মিলনের হয়ে প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন স্ত্রী অর্পিতা। সোমবার ভিডিয়োবার্তায় নন্দীগ্রামের ভোটারদের কাছে স্বামীর পক্ষে সমর্থন চাওয়ার পাশাপাশি গ্রেফতারির সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অর্পিতা বলেন, “ভোটে রায় দিয়েই মানুষ মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের পক্ষে জবাব দিক।” ফলে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, নন্দীগ্রামে লড়াইয়ের পাশাপাশি মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি টানাপোড়েনও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।














