বাংলাহান্ট ডেস্ক: ড্রোনের বাড়তে থাকা হুমকি মোকাবিলায় আরও এক ধাপ এগোচ্ছে ভারত (India)। শত্রুপক্ষের ড্রোন ও চালকবিহীন আকাশযান ঠেকাতে ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার লেজার-ভিত্তিক ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনকে উৎপাদনের পথে নিয়ে যেতে উদ্যোগী হয়েছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা DRDO। সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল বি কে দাস জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই সিস্টেমের জন্য শিল্প অংশীদার বাছাই করতে আগ্রহপত্র বা EoI জারি করা হবে। অর্থাৎ এতদিন গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায়ে থাকা প্রযুক্তিকে এবার বাস্তব উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০ কিলোওয়াট সিস্টেমটির চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ২০২৫ সালের অগস্টে সম্পন্ন হয়েছে।
৩০ কিলোওয়াট ডিরেক্টেড এনার্জি উইপন তৈরির পথে ভারত (India)
ট্রাক-বাহিত এই লেজার অস্ত্র মূলত ড্রোন-বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলা করার ক্ষমতা রয়েছে সিস্টেমটির। শুধু একটি ড্রোন নয়, একসঙ্গে একাধিক ড্রোনের ঝাঁক, ফিক্সড-উইং UAV এবং নজরদারি সেন্সরের মতো লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধেও এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। লেজার রশ্মির কেন্দ্রীভূত শক্তি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুর গুরুত্বপূর্ণ সেন্সর বা ইলেকট্রনিক অংশ অকার্যকর করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি ক্ষতিও করা সম্ভব। ২০২৫ সালের পরীক্ষায় একাধিক ড্রোনের আক্রমণ এবং বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের লক্ষ্য মোকাবিলায় সিস্টেমটির সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে (India)।
ড্রোন যুদ্ধের ধরন বদলে যাওয়াই এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসের অপারেশন সিঁদুরের সময় ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতার পর কম খরচে একসঙ্গে একাধিক ড্রোন মোকাবিলার সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়। প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুর জন্য আলাদা ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন হতে পারে। সেখানে লেজার অস্ত্রে বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় সিস্টেম সক্রিয় থাকলে দ্রুত পরপর একাধিক লক্ষ্য মোকাবিলার সম্ভাবনা থাকে। তবে প্রযুক্তিটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বৃষ্টি, কুয়াশা, ধুলো বা অন্যান্য বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি লেজারের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ভবিষ্যতের বিমান প্রতিরক্ষায় লেজারকে একমাত্র ব্যবস্থা না করে বিভিন্ন স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহার করার বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
৩০ কিলোওয়াট সিস্টেমটি আসলে DRDO-র ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্র কর্মসূচির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর আগে কম ক্ষমতার লেজার সিস্টেম নিয়েও কাজ করেছে সংস্থাটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সিস্টেমের উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং ১০ কিলোওয়াট শ্রেণির ব্যবস্থাও উন্নয়ন ও অধিগ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। DRDO-র নিজস্ব তথ্যেও ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনের জন্য ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজের উল্লেখ রয়েছে। ফলে ৩০ কিলোওয়াট লেজারকে সেই প্রযুক্তিগত ধারাবাহিকতার পরবর্তী বড় ধাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। লক্ষ্য, দেশীয় প্রযুক্তিতে এমন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা, যা ভবিষ্যতের ড্রোন-ভিত্তিক হুমকির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

লেজার অস্ত্রের মূল শক্তি হল আলোর গতিতে শক্তি লক্ষ্যবস্তুর দিকে পৌঁছে দেওয়া। বিমান প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে প্রথমে রাডার বা সেন্সর হুমকি শনাক্ত করে, তারপর সেটির পরিচয় ও গতিপথ বিশ্লেষণ করা হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে, সেই সিদ্ধান্তের পর লক্ষ্যবস্তুকে নিষ্ক্রিয় করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই দ্রুত পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের ধারাকেই সামরিক পরিভাষায় OODA লুপ বলা হয়। DRDO-র ৩০ কিলোওয়াট লেজার প্রকল্পের অগ্রগতি তাই শুধু নতুন একটি অস্ত্র তৈরির ঘটনা নয়; ক্রমবর্ধমান ড্রোন হুমকির মোকাবিলায় ভারতের (India) দেশীয়, স্তরভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।














