বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটকের অভিযোগ নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের (United Nations) মানবাধিকার মহল। বালোচিস্তান-সহ পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদীদের উপর প্রশাসনের আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। রাষ্ট্রসংঘের নথিতেও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, ভয় দেখানো, নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটকের অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে বালোচিস্তানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও জবাবদিহির দাবিতে হওয়া আন্দোলনগুলিতে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে।
পাকিস্তানে আন্দোলন দমনে নিপীড়ন নিয়ে সরব রাষ্ট্রসংঘ (United Nations):
মানবাধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের (United Nations) নথিতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা উচিত নয়। বালোচিস্তানে বালোচ লং মার্চ এবং অন্যান্য আন্দোলন ঘিরে কাঁদানে গ্যাস, মারধর, গুলি চালানো এবং নির্বিচারে আটক করার মতো অভিযোগের কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকারকর্মী, আন্দোলনকারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের উপর হয়রানি ও ভয় দেখানোর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অবশ্য এই অভিযোগগুলির পাশাপাশি পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: শুল্ক-চাপের মাঝেই আমেরিকায় G20 Summit-এ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! ট্রাম্পের সঙ্গে হবে বৈঠকও
এই আবহেই ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ও প্রতিবাদ সামলানোর পদ্ধতি নিয়ে তুলনামূলক বক্তব্যের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে রাষ্ট্রসংঘের প্রকাশ্য নথিতে পাকিস্তান সংক্রান্ত যে উদ্বেগগুলি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ভারতের কোনও নির্দিষ্ট সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনকে পাকিস্তানের বিকল্প মডেল হিসেবে বর্ণনা করার তথ্য স্পষ্টভাবে মেলে না। ফলে ভারতের প্রসঙ্গে হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের কথিত মন্তব্য নিয়ে যে দাবি করা হচ্ছে, সেটি আলাদা করে যাচাই করা জরুরি। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার মূল অবস্থান অবশ্য শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার নীতি মেনে চলার উপর জোর দেয়।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের বালোচিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি ঘিরেও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের নথিতে বালোচিস্তানে জোর করে নিখোঁজ করা, হেফাজতে নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের গ্রেফতারের মতো অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। তবে প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রেই স্বাধীন তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক নজর যে আরও বাড়ছে, তা স্পষ্ট।

আরও পড়ুন: মিসাইল নয়, এবার লেজারের আলোতেই ড্রোন ‘খতম’! ৩০ কিলোওয়াট Directed Energy Weapon তৈরির পথে ভারত
এরই মধ্যে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে ফের বিতর্ক তৈরি করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান। রাষ্ট্রসংঘের (United Nations) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মঙ্গলবার ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সমস্ত বিরোধের, যার মধ্যে কাশ্মীরও রয়েছে, রাষ্ট্রসংঘের সনদ ও প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। এরদোগানের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই কাশ্মীরকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে দেখে এসেছে এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে। ফলে একদিকে পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ, অন্যদিকে একই সময়ে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে তুরস্কের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলা—দুই ঘটনাই নতুন করে নজরে এসেছে।













