বাংলা হান্ট ডেস্ক : একই পরিবারের একাধিক মহিলা যদি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PM Awas Yojana) বাড়ির দাবিদার হন, তাহলে উপভোক্তা বাছাই কীভাবে হবে, তা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার সমাধানে আপাতত বয়সকেই মাপকাঠি করছে প্রশাসন। কোনও পরিবারে একাধিক মহিলা সদস্যের দাবি থাকলে তাঁদের মধ্যে যিনি বয়সে প্রবীণ, তাঁর নামেই আবাসের বাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আবাস যোজনার (PM Awas Yojana) বাড়ির মালিকানা নিয়ে গন্ডগোল
বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার সময়ই এই সমস্যার বাস্তব চিত্র সামনে আসে। এমন অনেক পরিবার রয়েছে যেখানে একই বাড়িতে একাধিক বিবাহিত ভাই এবং তাঁদের স্ত্রী থাকেন। ফলে আবাসের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই একাধিক নাম উঠে আসছে। পঞ্চায়েত দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, তিন ভাইয়ের পরিবার হলে তিন বউই নিজের নামে বাড়ি পাওয়ার দাবি জানাতে পারেন। সেই দাবি থেকেই কোথাও পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য, আবার কোথাও জায়েদের মধ্যে বিবাদের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সমীক্ষার কাজে যুক্ত সরকারি কর্মীরা। বাড়িতে গিয়ে উপভোক্তার নাম চূড়ান্ত করার সময় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় তাঁরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। পরে সেই রিপোর্ট পঞ্চায়েত দফতরে পৌঁছতেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়। এক দফতর কর্তার মতে, বিষয়টি বাস্তবে বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রথম দিকে অবশ্য একটি আলাদা পদ্ধতির কথা ভাবা হয়েছিল। পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক মহিলা—যেমন মা, দিদা কিংবা ঠাকুমা—জীবিত থাকলে তাঁর নামকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বহু পরিবারের ক্ষেত্রে সেই বয়সে প্রবীণ মহিলা সদস্য আর জীবিত নেই। ফলে পরবর্তী প্রজন্মের একাধিক মহিলা সদস্যের মধ্যে কাকে বেছে নেওয়া হবে, সেই প্রশ্নই উঠছে। সেখান থেকেই বয়সের ভিত্তিতে অগ্রাধিকারের সিদ্ধান্ত।
কোনও পরিবারে একাধিক মহিলা আবাসের জন্য যোগ্য দাবিদার হিসেবে উঠে এলে তাঁদের মধ্যে যাঁর বয়স বেশি, তাঁর নাম বিবেচনা করা হবে। তবে শুধু বয়স বেশি হলেই বাড়ি নিশ্চিত নয়। আবাস যোজনার নির্ধারিত যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে। প্রাথমিক পর্যায়ের আবেদন গ্রহণের পর এখন শুরু হয়েছে আরও খুঁটিনাটি যাচাই। প্রশাসনের তরফে দেখা হচ্ছে, তালিকায় থাকা পরিবার বা আবেদনকারীরা প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী সত্যিই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না।

আরও পড়ুন :আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম! বারুইপুর আদালতের ঘটনায় রিপোর্ট চাইল হাই কোর্ট
সরকারের লক্ষ্য, আবাস যোজনার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত যোগ্য পরিবার যেন বাদ না পড়ে। যাচাইয়ের সময় কোনও যোগ্য উপভোক্তা বাদ পড়ছেন কি না, তা বিশেষভাবে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের মহিলার নামে বাড়ি করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই। তার পরেই গ্রামাঞ্চলে তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তবে সুবিধাভোগী নির্বাচন করতে গিয়ে একাধিক মহিলা সদস্যের দাবি যে নতুন প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করতে পারে, সমীক্ষার কাজেই তার ছবি স্পষ্ট হয়েছে।













