এক দশক পর ওয়াশিংটনে পা রাখলেন জিনপিং! রাজকীয় অভ্যর্থনা ট্রাম্পের, হল বড় ঘোষণাও

Published on:

Published on:

Chinese President Xi Jinping visits America after almost 11 years
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তাপ পেরিয়ে ফের মুখোমুখি আমেরিকা (America) ও চিন (China)। এক দশকেরও বেশি সময় পর ওয়াশিংটনে পা রাখলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। বুধবার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আমেরিকায় পৌঁছতেই তাঁকে নজিরবিহীনভাবে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সাধারণ প্রোটোকল অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানানোর রীতি থাকলেও এবার ট্রাম্প নিজেই জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে হাজির হন। ১০০ ফুট দীর্ঘ লাল গালিচা, সামরিক ব্যান্ড, কামানের আনুষ্ঠানিক তোপধ্বনি এবং বিশেষ গার্ডের উপস্থিতিতে শিকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী পেং লিয়ুয়ান। দুই রাষ্ট্রনেতা করমর্দনের পর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন।

প্রায় ১১ বছর পর আমেরিকা সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping):

জিনপিংয়ের (Xi  Jinping) এই সফরের আবহ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাণিজ্যিক সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণায়। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গত বছর ট্রাম্প ও শির বৈঠকের মাধ্যমে যে বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির কাঠামো তৈরি হয়েছিল, সেটির মেয়াদ আরও দু’মাস বাড়ানোর কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের নির্ধারিত নভেম্বরের সময়সীমা পিছিয়ে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই সমঝোতা বজায় থাকবে। ফলে শির ওয়াশিংটন সফরের শুরুতেই দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার বার্তা মিলেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এখনও বাকি।

আরও পড়ুন: আইন মেনে ও সুদ সহ পেনশন মেটাতে হবে! বড় রায় হাইকোর্টের, স্বস্তি কর্মীমহলে

আনুষ্ঠানিকতার বাইরে তাই নজর এখন ট্রাম্প-শি বৈঠকের দিকে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং ইরান-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। বিশেষ করে AI প্রযুক্তি নিয়ে আমেরিকা ও চিনের প্রতিযোগিতা বর্তমানে নতুন মাত্রা পেয়েছে। দু’দেশের আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই AI-সংক্রান্ত ঝুঁকি নিয়ে আলাদা যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ফলে এই বৈঠকে প্রযুক্তি-নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের AI সহযোগিতা বা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারে।

এবারের সফরকে ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দুই রাষ্ট্রনেতার ব্যক্তিগত যোগাযোগ। চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্প বেজিং সফরে গিয়ে শির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। কয়েক মাসের মধ্যেই এবার শি এলেন ওয়াশিংটনে। ফলে পরপর এই সাক্ষাৎ দু’দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্যেও রাতারাতি বড় কোনও চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। বরং বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতি ধরে রাখা, প্রযুক্তি ও কৌশলগত বিষয়ে যোগাযোগ চালু রাখা এবং মতবিরোধের জায়গাগুলিতে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়াই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।

Chinese President Xi Jinping visits America after almost 11 years

আরও পড়ুন: পুজোর ছুটিতে পাহাড়ের টান? কার্শিয়ঙের কাছের বেলতার’তে কাটান নিরিবিলি সময়

সফরের আনুষ্ঠানিক আয়োজনও যথেষ্ট বর্ণাঢ্য। বিমানবন্দরে জিনপিংয়ের (Xi Jinping) আগমনের সময় B-1 বোমারু বিমানের ফ্লাইওভার নজর কেড়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা ও নৈশভোজের আয়োজন রয়েছে। সরকারি সূচি অনুযায়ী, ওই দিন সামরিক প্রদর্শনের পাশাপাশি B-2 Spirit ও F-22 যুদ্ধবিমানের ফ্লাইওভারেরও পরিকল্পনা রয়েছে। নৈশভোজে মার্কিন প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতির কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে, একসময় বাণিজ্যযুদ্ধ ও শুল্ক-সংঘাতের কারণে যে সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, সেই আমেরিকা-চিন সম্পর্কেই এখন আলোচনার টেবিলে সমঝোতার নতুন পথ খোঁজা হচ্ছে।