৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম জ্ঞানেশকে! ইস্তফা না দিলে দেশজুড়ে ‘যন্তর মন্তর ২’-র হুঁশিয়ারি ককরোচদের

Published on:

Published on:

Now, CJP threatens agitation demanding the resignation of Gyanesh Kumar.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে এবার দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party)। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে (New Delhi) সাংবাদিক বৈঠক করে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে সারা দেশে আন্দোলনে নামবে তাঁদের সংগঠন। দিল্লিতে ফের ‘যন্তর মন্তর ২.০’ ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। CJP-র এই ঘোষণার সময়েই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং বিশেষ করে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এবার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে  আন্দোলনের হুঁশিয়ারি CJP-র:

সাংবাদিক বৈঠকে CJP-র পক্ষ থেকে তিনটি মূল দাবি তুলে ধরা হয়। প্রথম দাবি, অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) পদত্যাগ করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করতে হবে। সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন ও SIR সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভিতরেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই অভিযোগের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও সামনে এসেছে। কমিশন জানিয়েছে, বিভিন্ন বিষয়ে ব্যক্তিগত মত বা পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক হলেও গত এক বছরে SIR-সহ কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের অনুমোদনেই সর্বসম্মতভাবে হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাড়বে ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি! শত্রুদের ঘুম উড়িয়ে দেবে ১৬০ টি SAT-SAAW, চমকে দেবে ক্ষমতা

দ্বিতীয় দাবিতে CJP আসন্ন নির্বাচনগুলির প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা এবং SIR বন্ধ করার কথা বলেছে। সংগঠনের দাবি, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যকর থাকা ভোটার তালিকাকে ফের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের গোটা প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের আরও বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি নিরাপদে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন এবং এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপও চাওয়া উচিত।

তৃতীয় দাবিটি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইনি কাঠামো নিয়ে। CJP ২০২৩ সালে তৈরি নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন বাতিল করে নতুন আইন আনার দাবি জানিয়েছে। সেই নতুন আইন তৈরির সময় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। CJP-র বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখতে নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। এই দাবিগুলির পটভূমিতে গত কয়েক দিনে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত একটি রিপোর্টও রয়েছে। সেখানে দুই নির্বাচন কমিশনারের একাধিক আপত্তির কথা উঠে এলেও কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।

Now, CJP threatens agitation demanding the resignation of Gyanesh Kumar.

আরও পড়ুন: মহিলাদের ফ্রি বাস যাত্রায় মানতে হবে ‘এই’ নিয়ম! বড় নির্দেশ পরিবহণ মন্ত্রীর

এ দিন অভিজিৎ দীপকে আরও বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) পদত্যাগ না করলে তাঁদের আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। CJP-র এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন SIR নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক ইতিমধ্যেই তীব্র হয়েছে। ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সংগঠনটি কী কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং নির্বাচন কমিশন বা অন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি তার প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর।