বাংলাহান্ট ডেস্ক: বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে অবশেষে খুলতে চলেছে সমস্ত জট? কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর এমনই আশা দেখছেন সরকারি কর্মচারীরা। বুধবার গ্রান্ট ইন এইড-দের পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টে রাজ্য সরকার তরফে জানানো হয়েছে, একটু সময় লাগবে, তবে বাকি থাকা ডিএ দিয়ে দেওয়া হবে। পুরসভার কর্মীরাও কি পাবে বকেয়া?
বকেয়া ডিএ-র ক্ষেত্রে পুরসভার কর্মীদের নিয়ে কী সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্ন উঠছে বহুদিন ধরেই। হাইকোর্টে পোষিতদের বকেয়া নিয়ে শুনানির পর আইনজীবী মহলের একাংশের ধারনা, মামলাটি যে হেতু ‘গ্রান্ট ইন এড’ কর্মচারীদের নিয়ে, সে ক্ষেত্রে পুরসভার কর্মীরাও এর আওতায় পড়তে পারেন।
বকেয়া ডিএ: বঞ্চিত পোষিতরা | Dearness Allowance
এদিকে বুধবারই সরকারি কর্মীদের ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া সম্পূর্ণ ডিএ এক কিস্তিতেই পরিশোধ করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার। দুর্গাপুজোর ছুটির আগেই রাজ্য এই বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করে ফেলতে চাইছে। যদিও হাইকোর্টে রাজ্যের অবস্থানের স্পষ্ট করার পরও গ্রান্ট ইন এইড-দের বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে কিছু বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি।
রাজ্য সরকারের আইনজীবী আদালতে জানান, বকেয়া ডিএ-র টাকা পাবেন গ্রান্ট ইন এইড-রাও। তবে একটু সময় লাগবে দিতে। কত সময় তা অবশ্য উল্লেখ করা হয়নি। সবমিলিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি মিললেও হতাশ এই সরকারি কর্মীরা।
এর আগে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া টাকা অনেকটাই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বার কর্মরত সরকারি কর্মীদেরও বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল সরকার তরফে। সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল হতাশা প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: বড় খবর! পুরুলিয়ায় ২৫৬ একর জমিতে তৈরি হবে প্রতিরক্ষা কেন্দ্র
আনন্দবাজারকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যের বিষয় যারা সবচেয়ে বেশি আন্দোলন করল, সরকার পরিবর্তনে যারা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন, বিশেষ করে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী ও গ্র্যান্ট ইন এড কর্মীরা, তাঁরাই বঞ্চিত থেকে গেলেন! পুজোর আগে একটা ইনস্টলমেন্টর টাকাও দেওয়া গেল না। এটা বিশ্বাসভঙ্গের শামিল বলে আমরা মনে করি।” এদিকে বকেয়া ডিএ-র প্রাপকদের তালিকায় কেন গ্রান্ট ইন এইড-দের নাম নেই, কেন তারা বঞ্চিত, এই প্রশ্ন তুলে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার অগ্রবালের কাছে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়েছে ‘বেঙ্গল টিচার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ় অ্যাসোসিয়েশন’ (বিটিইএ)।













