ক্রমশ বাড়ছে নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনা! চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল NCRB

Published on:

Published on:

What National Crime Records Bureau report says on increasing Incidents of rape involving minors.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের (India) বিভিন্ন প্রান্তে নাবালিকা ও মহিলাদের (National Crime Records Bureau) উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা বারবার সামনে আসছে। ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও । তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা দিয়ে দেশের ছবিটা পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো বা NCRB-এর পরিসংখ্যান বলছে, নাবালিকাদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের সমস্যা অনেক বেশি গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদি। বিশেষ করে ধর্ষণের মামলায় গত এক দশকের পরিসংখ্যান উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

ক্রমশ বাড়ছে নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনা! চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল NCRB (National Crime Records Bureau)-র রিপোর্টে:

NCRB (National Crime Records Bureau)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ১৮ বছরের কম বয়সি নাবালিকাদের ধর্ষণের অভিযোগে ১০,৯৩৪টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩,৬৭৫-এ। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে নাবালিকা ধর্ষণের নথিভুক্ত মামলার সংখ্যা প্রায় চারগুণ হয়েছে। শুধু একটি বছরের পরিসংখ্যান নয়, গত কয়েক বছরের তথ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২০ থেকে ২০২৪—এই পাঁচ বছরে POCSO আইনের আওতায় ধর্ষণের শিকার হয়েছে প্রায় ১.৮৩ লক্ষ শিশুকন্যা। শিশুদের বিরুদ্ধে নথিভুক্ত বিভিন্ন ধরনের যৌন অপরাধের মধ্যে ধর্ষণের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন: বিদেশিদের তুলনায় যথেষ্ট কম দামে বাজার কাঁপাচ্ছে ভারতের অস্ত্র! দেশে আরও যুদ্ধবিমান তৈরির কারখানা

তবে যৌন অপরাধের পরিসর শুধুমাত্র ধর্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ওই পাঁচ বছরে নন-পেনিট্রেটিভ সেক্সুয়াল অ্যাসল্টের অভিযোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৬,৫০৫। যৌন হয়রানির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ১২,৮০৭টি। পাশাপাশি ২,৯২৪ শিশুকে ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কনটেন্ট তৈরির ঘটনাও রিপোর্ট হয়েছে। অন্যান্য যৌন অপরাধের বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ৩,০৩৪। বয়সের হিসাবেও উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোরীরাই সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে—সংখ্যা প্রায় ৯৪,৫০৩। ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সি আক্রান্তের সংখ্যা ৭০,৪৪২। অর্থাৎ এই দুই বয়সের কিশোরীরাই মোট আক্রান্তের বড় অংশ।

পরিসংখ্যানের আর একটি দিক আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি করছে। অভিযোগ এবং মামলা বাড়লেও সেই অনুপাতে দ্রুত বিচার হচ্ছে না। ২০২৪ সালে নাবালিকা ধর্ষণের মামলায় সাজার হার ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে বিচারাধীন মামলার হার প্রায় ৮৬ শতাংশ। গত এক দশকের পরিসংখ্যানেও সাজার হার মোটামুটি ৩০ শতাংশের আশপাশে থেকেছে, যেখানে বিচারাধীন মামলার হার অধিকাংশ সময়েই ৮৫ শতাংশের উপরে। ফলে মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। POCSO আইনের আওতায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত চালু থাকলেও বাস্তবে বহু পরিবারকে এখনও দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে।

What National Crime Records Bureau report says on increasing Incidents of rape involving minors.

আরও পড়ুন: নির্বাচন কমিশনে সত্যিই কোন্দল? একফ্রেমে ৩ কমিশনারের ছবি প্রকাশ করে জল্পনায় জল ঢালল ECI

এই পরিসংখ্যান তাই শুধু অপরাধের সংখ্যা বাড়ার ছবিই দেখাচ্ছে না, সামনে আনছে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার প্রশ্নও। একটি নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা শুধু একটি মামলা নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের দীর্ঘ লড়াই এবং আক্রান্ত শিশুটির ভবিষ্যৎ। NCRB (National Crime Records Bureau)-এর তথ্য সেই বাস্তবতারই সংখ্যাগত প্রতিফলন। একদিকে নাবালিকাদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগের সংখ্যা কমানোর প্রয়োজন, অন্যদিকে দায়ের হওয়া মামলাগুলির দ্রুত তদন্ত ও বিচার শেষ করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ অপরাধের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি বিচার পাওয়ার সময়টাও শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।