বাংলা হান্ট ডেস্ক : রেজিনগর উপনির্বাচনের আবহেই মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রকাশ্য সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ করে তাঁর করা মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কী বলেন হুমায়ুন (Humayun Kabir)?
হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গ। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর শুভেন্দু অধিকারীর আচরণে পরিবর্তন এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘হাতির পাঁচ পা’ দেখছেন বলেও কটাক্ষ করেন হুমায়ুন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করে হুমায়ুন কবীর বলেন, “যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে যায়, উপরওয়ালার কাছে দোয়া চাইব। তিনি যেন তাড়াতাড়ি উপরে যাওয়ার টিকিট কেটে দেন। অহংকারের পতন হবে, পৃথিবী থেকে যেতে হবে।”
আগেও মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে একাধিক কড়া মন্তব্য করেছেন হুমায়ুন। নিজের রাজনৈতিক এলাকায় শুভেন্দু গেলে তাঁকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি পুলিশকেও মানবেন না বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই বক্তব্য ঘিরেও সে সময় যথেষ্ট বিতর্ক হয়েছিল।
রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে অতীতের একটি রাজনৈতিক ঘটনার উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবীর। হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য অনুযায়ী, “ক্ষমতা পেয়ে হাতির পাঁচ পা দেখেছে! উপরওয়ালার কাছে দোয়া চাইব, যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে চলে যায়। আল্লা তার টিকিট কাটিয়ে দিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন নিজের দল থেকে আমাকে বহিষ্কার করেছিলেন, সেদিনও দোয়া চেয়েছিলাম, উনি যেন ক্ষমতাচ্যুত হন, বর্তমান থেকে প্রাক্তন হন। আল্লা সেকথা শুনেছেন। মহারাষ্ট্রের অজিত পওয়ার, মাধবরাও সিন্ধিয়া কিংবা ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধীদের যেমন হয়েছিল, একেও সেভাবে পৃথিবী থেকে যেতে হবে। আস্ফালন, অহংকারের পতন হবে।”

আরও পড়ুন :কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা! বিদ্যুতে ইউনিট-পিছু ২ টাকা ভর্তুকি, চালু হবে কবে?
হুমায়ুনের মন্তব্যের সময়টিও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রেজিনগর কেন্দ্রে উপনির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। এই আসন থেকেই এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ। তবে উপনির্বাচনের প্রচার থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছেন হুমায়ুন। পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে তাঁর দলও প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে হুমায়ুনের মন্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এখন নজর, এই বক্তব্যকে ঘিরে জল কোন দিকে গড়ায় এবং নির্বাচনী প্রচারে তার কোনও প্রভাব পড়ে কি না।













