বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। এবার সেই আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। মুম্বই থেকে এই কর্মসূচি শুরু করে পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জবাবদিহি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই CJP-র এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানালেন জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে আন্দোলনে তিনি নিজে শারীরিকভাবে উপস্থিত নাও থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও আন্দোলনকে সমর্থন করার অর্থ সেটিকে এমন জায়গায় পৌঁছে দেওয়া, যেখানে সংশ্লিষ্ট মানুষজন নিজেরাই সেই লড়াই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে সমর্থন সোনমের (Sonam Wangchuk):
সোনমের (Sonam Wangchuk) মতে, একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করার যে কোনও উদ্যোগকে সমর্থন করা উচিত বলে জানিয়েছেন তিনি। PTI-কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া যদি দুর্বল বা প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। একইসঙ্গে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গও উঠে আসে।
২ অক্টোবরকে আন্দোলনের জন্য বেছে নেওয়ার বিষয়টিকেও আলাদা গুরুত্ব দিয়েছেন ওয়াংচুক। তাঁর কথায়, এই দিনটি মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সঙ্গে এই দিনের ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে। CJP-র আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আগে সংগঠনটি যখন তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল, তখনও তিনি তাদের কর্মসূচিকে সমর্থন করেছিলেন। এখন নির্বাচনী জবাবদিহির প্রশ্নে আরও অনেক মানুষ সরব হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট বলেও জানান। তবে প্রতিটি আন্দোলনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেই স্পষ্ট করেছেন লাদাখের এই সমাজকর্মী।
CJP-র ঘোষণার নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার এস এস সন্ধু এবং বিবেক যোশী ভোটার তালিকায় নাম যোগ, বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার তাঁদের আপত্তির কথা উল্লেখ করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের জবাবে জানিয়েছে, SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের সর্বসম্মত অনুমোদনের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: উৎসবের মরসুমে ফের টান পড়বে পকেটে! ১ অক্টোবর থেকে বাড়তে চলেছে AC-ফ্রিজ-TV-র দাম
এদিকে CJP জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতেই ২ অক্টোবরের কর্মসূচি। সংগঠনটির আগের ঘোষণায় মুম্বই থেকে আন্দোলন শুরু করে তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। যদিও রবিবার CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেছেন, ২ অক্টোবর মুম্বইয়ে কর্মসূচির জন্য পুলিশ অনুমতি দেয়নি এবং অনুমতি না মিললে ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) সমর্থন নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করায় আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।













