বাংলা হান্ট ডেস্ক : আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Case) তদন্ত ঘিরে এবার নতুন করে প্রশ্নের মুখে খড়দহ থানার পুলিশ। একটি মামলায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং নির্যাতিতার প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারির পরেই সামনে এসেছে তদন্তের পরিধি নিয়ে জটিলতা। কারণ, যে মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে খড়দহ থানায় মামলা হয়েছে, সেই আরজি করের ধর্ষণ ও খুনের তদন্ত ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের হাতে। তার উপর সেই তদন্ত চলছে কলকাতা হাইকোর্টের নজরদারিতে।
আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Case) কেন পৃথক এফআইআর ?
এই পরিস্থিতিতে একই ঘটনার সূত্র ধরে রাজ্য পুলিশের একটি থানায় আলাদা করে মামলা দায়ের করে তদন্ত চালানোর প্রয়োজন হল কেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে ইন-ক্যামেরা শুনানি হয়। সেখানেই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা চায় আদালত। আদালতের এই প্রশ্নের উত্তর দিতে আগামী ১ অক্টোবর খড়দহ থানার আইসি এবং মামলার তদন্তকারী আধিকারিককে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খড়দহ থানায় দায়ের হওয়া মামলাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তিন জনকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং নির্যাতিতার প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। পরবর্তীতে নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় জামিনে মুক্তি পেলেও সোমনাথ দে এখনও জেলবন্দি। সোমনাথ দে-র হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অকপ্রতিম চৌধুরী। আরজি কর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে তিনিই খড়দহ থানার পৃথক FIR-এর বিষয়টি বিচারপতিদের নজরে আনেন। এরপরই একই ঘটনার ক্ষেত্রে দুই তদন্তের অস্তিত্ব নিয়ে আইনি প্রশ্ন সামনে আসে।
আদালতের নথি থেকে জানা যাচ্ছে, গত ১০ অগস্ট নির্যাতিতার পরিবারের তরফে খড়দহ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে ওই মামলাতেই প্রাক্তন বিধায়ক-সহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের পৃথক তদন্তের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে মামলার এক পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, দুই মামলার বিষয়বস্তু এক নয়। তাঁর বক্তব্য, খড়দহ থানায় দায়ের করা অভিযোগে মূল ঘটনার পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি বিষয়ও রয়েছে। সেই কারণে সিবিআইয়ের তদন্ত এবং খড়দহ থানার তদন্তের ক্ষেত্র আলাদা বলেই দাবি করা হয়। এই পর্যায়ে এসে নতুন তদন্ত বন্ধ করা বা সেটি অন্য কোনও সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগও কম বলে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। যদিও এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়নি ডিভিশন বেঞ্চ। অভিযোগে ঠিক কী বলা হয়েছে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানার তদন্তের প্রয়োজনীয়তা কতটা, তা খতিয়ে দেখতে চাইছে আদালত।

আরও পড়ুন : ট্রেনে ID প্রুফ নেই? এই সরকারি অ্যাপ থাকলেই মিলবে সমাধান
এখন ১ অক্টোবর খড়দহ থানার আইসি এবং তদন্তকারী আধিকারিক আদালতে কী ব্যাখ্যা দেন, তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। আরজি করের মূল তদন্তের পাশাপাশি খড়দহ থানার এই পৃথক তদন্ত আদৌ কোন পথে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর আইনজীবী মহল থেকে সাধারণ মানুষের।













