বাংলাহান্ট ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের (Pakistan) পরিস্থিতি ফের আন্তর্জাতিক আলোচনায়। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (IEP)-এর গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হয়েছে পাকিস্তান। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ওই বছরে পাকিস্তানে ১,০৪৫টি সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১,১৩৯ জন। একই সময়ে ১,৫৯৫ জন আহত হয়েছেন এবং পণবন্দি করার ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৬৫৫-এ পৌঁছেছে। IEP জানিয়েছে, ২০২৫ সালে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো এই সূচকে শীর্ষে উঠে এসেছে।
সন্ত্রাসবাদের কারণে সব থেকে বেশি ক্ষতি পাকিস্তানেরই (Pakistan), সামনে এল রিপোর্ট:
এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই পাকিস্তানের প্রাক্তন কূটনীতিক হুসেন হাক্কানির মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। আমেরিকায় পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত হাক্কানি সামাজিক মাধ্যমে রিপোর্টের একটি গ্রাফিক শেয়ার করে লেখেন, নিজের বাড়ির পিছনে সাপ পুষলে একদিন সেই সাপ নিজের পরিবারের লোককেও কামড়াতে পারে। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে পাকিস্তানের অতীতে কট্টরপন্থী জেহাদি সংগঠনগুলিকে অস্ত্র দেওয়ার নীতির প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। হাক্কানি প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিনের অভিজ্ঞতা থেকে পাকিস্তান কি কোনও শিক্ষা নেবে? তাঁর এই মন্তব্য আসলে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের জঙ্গি-নীতি নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ ট্রাম্পের! ‘হামলা হলে যুদ্ধ আরও ভয়ঙ্কর হবে’, হুমকি ইরানের
রিপোর্টের পরিসংখ্যানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলার সংখ্যা ছিল ১,০৯৮। ২০২৫ সালে তা কিছুটা কমে ১,০৪৫ হলেও সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ১,১৩৯ হয়েছে। IEP বলছে, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর সংখ্যা টানা ষষ্ঠ বছর বেড়েছে এবং ২০২৫-এর পরিস্থিতি ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানে ২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তান। IEP-এর হিসাবে, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার ৭৪ শতাংশেরও বেশি এবং সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ এই দুই পশ্চিম সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ঘটেছে। তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান বা TTP-কে রিপোর্টে দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী মৃত্যুর ৫৬ শতাংশের সঙ্গে TTP-র যোগ পাওয়া গিয়েছে এবং সংগঠনটির হামলায় ৬৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি বা BLA-র তৎপরতাও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

আরও পড়ুন: একসঙ্গে জোড়া ঘোষণা রেলের, এক রুটে বাতিল অন্যটিতে স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা
সব মিলিয়ে, রিপোর্টটি পাকিস্তানের (Pakistan) নিরাপত্তা পরিস্থিতির গভীর সংকটের একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক ছবি তুলে ধরেছে। একইসঙ্গে IEP জানিয়েছে, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী পরিস্থিতির পিছনে সীমান্তবর্তী অস্থিরতা এবং TTP ও BLA-র মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে পাকিস্তানের সামনে শুধু জঙ্গি হামলা ঠেকানো নয়, সীমান্ত নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যার মোকাবিলাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাক্কানির ‘ঘরে সাপ পোষা’র মন্তব্য তাই নতুন করে পাকিস্তানের অতীত নীতি এবং তার বর্তমান পরিণতি নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।













