বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুরনো শ্রমিক কোয়ার্টার, জরাজীর্ণ ঘর আর নানা সমস্যার মধ্যেই বছরের পর বছর পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বহু চটকল শ্রমিক। তাঁদের আবাসন সমস্যার দিকে নজর দিয়ে এবার নতুন পরিকল্পনা হাতে নিল রাজ্য সরকার। কম খরচে স্থায়ী বাসস্থানের সুযোগ করে দিতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা–আরবান ২.০-এর (PMAY Awas Scheme) অধীনে একটি বিশেষ আবাসন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আপাতত উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলিতে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ এগোবে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা–আরবান ২.০-এর (PMAY Awas Scheme) শর্ত
এই উদ্যোগের মাধ্যমে মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল চটকল শ্রমিকদের পরিবারকে আবাসনের আওতায় আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। পুরনো ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়া শ্রমিক আবাসনের পরিবর্তে তাঁদের জন্য নিরাপদ বাড়ির ব্যবস্থা করাই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।আবাসন পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। PMAY-U 2.0-এর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনও পরিবারের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকার বেশি হলে এই সুবিধা মিলবে না।
পাশাপাশি আবেদনকারীর নামে দেশের কোনও প্রান্তেই পাকা বাড়ি থাকা চলবে না। এই দুই মাপকাঠির ভিত্তিতেই সম্ভাব্য উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি করা হবে। বাড়িগুলিও নির্দিষ্ট নকশা মেনে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। একটি ইউনিটের আয়তন ৩০ থেকে ৪৫ বর্গমিটারের মধ্যে হবে। পরিবারের প্রয়োজন মাথায় রেখে সেখানে দুটি ঘর, রান্নাঘর এবং শৌচাগার রাখা হবে।
উপভোক্তা বাছাইয়ের কাজেও একাধিক পক্ষকে যুক্ত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় পুরসভা, সংশ্লিষ্ট চটকল কর্তৃপক্ষ এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলির সঙ্গে সমন্বয় করেই সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে পুরসভাগুলি। উত্তর ২৪ পরগনায় ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য জমির খোঁজ শুরু হয়েছে। ভাটপাড়া, টিটাগড় ও কামারহাটি পুরসভা এলাকায় এমন জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে কোনও আইনি দায় বা অন্য কোনও জটিলতা নেই। ভবিষ্যতে সেই জমিতে আবাসন তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

আরও পড়ুন : ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সেরা কাজ করলেই বিশেষ সম্মান! মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা
হুগলিতে চটকল শ্রমিকদের কাছ থেকে আবেদন সংগ্রহের জন্য শ্রম কমিশনারের সহায়তায় বিশেষ শিবির আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক এই প্রকল্পের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে শ্রম দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। এখন পরীক্ষামূলকভাবে নেওয়া এই উদ্যোগ বাস্তবে কত দ্রুত রূপ পায়, সেটাই দেখার। এই প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে আরও চটকল শ্রমিককে আবাসনের আওতায় আনার পথও খুলতে পারে এই উদ্যোগ।













