পুরসভায় ডিলিমিটেশনের জনবিন্যাস কীভাবে? রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে কমিশনারকে চিঠি CPM-র

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতা পুরসভার (KMC) প্রস্তাবিত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা Delimitation নিয়ে এবার সরব হল সিপিএম (CPM)। তাঁদের অভিযোগ এই খসড়া ডিলিমিটেশনে একাধিক মারাত্মক অসঙ্গতি তো রয়েছেই, সেইসাথে বেশ কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করার পাশাপাশি নজরে এসেছে বৈষম্যও।

পৌরসভার ডিলিমিটেশনে জনবিন্যাস কিভাবে?

জানা যাচ্ছে, সিপিএমের (CPM) কলকাতা জেলা কমিটির তরফ থেকে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠিতে প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্বিন্যাসের সমস্ত তথ্য যাতে আরও একবার বিষদে পুনর্বিবেচনা করা হয় তারই জোরালো দাবি জানিয়েছে দলের কলকাতা জেলা কমিটি।

চিঠিতে পরিসংখ্যানের অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে বাম নেতৃত্বের তরফে দাবী করা হয়েছে, নতুন প্রস্তাবিত ওয়ার্ডগুলির মধ্যে জনসংখ্যা ও ভোটারের সংখ্যার নিরিখে বিরাট বৈষম্য রয়েছে। এছড়াও পুর কমিশনারের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরে দেখানো হয়েছে যে, ৫৭, ৩৯, ৩৭ এবং ৩৬ নম্বর প্রস্তাবিত ওয়ার্ডগুলিতে মোট ভোটারের সংখ্যা রয়েছে যথাক্রমে প্রায় ৫,৬৫৫, ৬,১১৯, ৭,০৭৬ এবং ৭,৪৯০ জন।

আরও পড়ুনঃ ‘ভোটের আগে তো সাথেই ছিলিস! জাত-কূলে তফাৎ কী?’ ঋতব্রত শিবির নিয়ে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ

যদিও শহরের অন্যান্য প্রান্তের ওয়ার্ডগুলিতে একেবারে উল্টো ছবি ধরা পড়ছে। এক্ষত্রে ১২১, ৪৫ এবং ৬৬ নম্বর প্রস্তাবিত ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা রাখা হয়েছে যথাক্রমে প্রায় ২৩,০৫৯, ২৪,০৪৮ এবং ২৮,৬৯৫ জন!

আর এখানেই অভিযোগ উঠছে ঠিক কোন যুক্তিতে একই পুর এলাকার ভোটারদের মধ্যে এই বিরাট অঙ্কের ব্যবধান তৈরি হল? কিংবা এর পিছনে ঠিক কোন মানদণ্ড কাজ করছে? এমনকী অভিযোগ এই বিষয়ে ওই খসড়ায় কোনও স্পষ্টীকরণও দেওয়া হয়নি।

এখানেই শেষ নয়, সিপিএম নেতৃত্বের আরও দাবী পরিসংখ্যানের অসঙ্গতি ছাড়াও গোটা প্রক্রিয়াটির পিছনেই চরম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব রয়েছে। আরও পরিষ্কার করে এই বিষয়ে তাঁরা বলেছেন, আগের নির্বাচনে যেসব বুথ বা এলাকায় বিজেপি বেশি ভোট পেয়েছিল। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার বেশ কিছু অংশকে আলাদা করে নিয়ে কম ভোটারের ছোট ছোট ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যেসমস্ত এলাকায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ভোটের হার কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব কম ছিল, সেই এলাকাগুলিকে একজায়গায় এনে জুড়ে দেওয়া বেশি ভোটারের বড় ওয়ার্ডের সাথে। তাই সবমিলিয়ে এই গোটা বিষয়টির নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও যুক্তিসঙ্গত পরীক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছে বাম শিবির।