বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পঞ্চম পে কমিশনের ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে সম্প্রতি যে বিজ্ঞপ্তি অর্থ দপ্তর জারি করেছে, সেই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক বেড়েই চলেছে। নয়া বিজ্ঞপ্তি ঘিরে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে সরকারি কর্মীদের মধ্যে। এই ইসুতেই এবার সরব হল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ (Sangrami Joutho Mancha)। সংগঠনের আহ্বায়ক সমাজমাধ্যমে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন।
নির্দেশ ও এই হিসাব পদ্ধতি সম্পূর্ণ বিপরীত! ক্ষুব্ধ যৌথ মঞ্চ | Dearness Allowance
ভাস্করবাবু লিখেছেন, “১. ০৪. ২০০৮ থেকে ৩১. ১২. ২০১৫ পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া নির্ণয়ের পদ্ধতি! এর আগে বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে ১০০ ভাগের মধ্যে ৪৩ ভাগ দিয়ে বলা হয়েছিল সব দিয়ে দিলাম। এবার যে হিসাবে বকেয়া মেটাতে চলেছে তাতে হয়তো এক শতাংশ না দিয়েই সব বকেয়া পরিশোধের রাস্তা বের করেছে অর্থ দপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা। তার মানে আবার সংঘাতেই জড়াতে চাইছে দপ্তর!
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন আপনার সাথে বৈঠকের সময় যখন আমরা ভুল হিসাবের কথা উল্লেখ করি তখন আপনি বলেছিলেন সব হিসাব ঠিক করে বকেয়া মেটাতে হবে। সেইমতো আমাদের সামনেই অর্থ সচিবকে হিসাব ঠিক করার নির্দেশ দেন ও বলেন টাকা সঠিক হিসাবেই মেটাবেন। আপনার নির্দেশ ও এই হিসাব পদ্ধতি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।

তারমানে আবার লড়াই করেই সব ঠিক করতে হবে। যদিও আমরা সবসময় এটার জন্য তৈরি থাকি।এরপর সরকার ঠিক করুক আমাদের সাথে সম্পর্কের বিন্যাস কীভাবে চাইছেন। সরকার যদি আমলা নির্ভর হয় সরকারের ছবি খারাপ হতে বেশি সময় লাগবে না কারণ ওরা ওটা ভালো পারে।
বিঃ দ্রঃ:- প্রথম ছবিতে AICPI এর মনগড়া হিসাব দেখুন আর আসল AICPI এর হিসাব দিলাম।” দুটো ছবিও সাথে পোস্ট করেছেন ভাস্করবাবু।
https://www.facebook.com/share/p/1KS9KLwjLS/?mibextid=wwXIfr
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ মতো রাজ্য সরকারি কর্মীদের পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া অর্থ ধীরে ধীরে মিটিয়ে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই বিষয়ে সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মী ও আধিকারিকদের (গ্রুপ এ, বি এবং সি শ্রেণির) পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএর পুরো অংশ তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ড ফান্ডে বা জিপিএফে জমা করা হবে। তবে বলা হয়েছে এই তহবিল থেকে টাকা তোলার সময় আয়কর খাতে টাকা কাটা হবে।
বকেয়া ডিএর দ্বিতীয় কিস্তি প্রদানের বিজ্ঞপ্তিতে আয়কর খাতে টাকা কাটার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে রাজ্য তরফে। অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ভুলবশত কোনো কর্মচারীকে বেশি টাকা দেওয়া হয়ে থাকলে সেটিও টাকা তোলার সময় হিসাব মাফিক বাদ দেওয়া হবে।
এই ওভারড্রলের যুক্তি দেখিয়ে টাকা কাটার বিষয়টিতে আপত্তি জানিয়েছেন কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ও। তার দাবি, সবর্ভারতীয় মূল্য সূচক (AICPI) অনুযায়ী বকেয়া ডিএর হিসাব করেনি সরকার। সেই কারণে কম টাকা পাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মালহোত্রা কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।













