বাংলাহান্ট ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ফের বড় সাফল্য নিরাপত্তাবাহিনীর। মধ্য কাশ্মীরের বডগাম জেলার ইউসমার্গের কোরাগ এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) সঙ্গে যুক্ত এক শীর্ষ জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রে নিহত জঙ্গির পরিচয় মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা (Musa) হিসেবে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্টে তাঁকে সুলেমান শাহ ওরফে মুসা নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ দল সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পেয়ে অভিযান আরও জোরদার করে।
জম্মু কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) ভারতীয় সেনার গুলিতে খতম পহেলগাঁও হামলার অন্যতম অভিযুক্ত মুসা:
ঘন জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অভিযানের শুরু থেকেই যথেষ্ট সতর্ক ছিল বাহিনী। তল্লাশির সময় সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার পর জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের জন্য সতর্ক করা হয় বলে সেনার তরফে জানানো হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তাবাহিনীর দাবি, পাল্টা গুলি চালায় জঙ্গিরা। এরপরই শুরু হয় তীব্র গুলির লড়াই। দু’পক্ষের দীর্ঘক্ষণ গুলি বিনিময়ের পর এক জঙ্গি নিহত হয়। পরবর্তী তল্লাশিতে পালমাইদান এলাকায় তার দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-সহ বেশ কিছু ‘ওয়ার-লাইক স্টোর’ও উদ্ধার হয়েছে বলে চিন্নার কোর জানিয়েছে। অভিযান শেষ হওয়ার পরেও আশপাশের জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়, যাতে আরও কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যায় (Jammu and Kashmir)।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, মুসা দীর্ঘদিন ধরেই পির পাঞ্জাল পর্বতমালার দু’দিকে সক্রিয় ছিল এবং একাধিক সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে তার যোগ ছিল। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার তদন্তেও তার নাম উঠে এসেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হয়েছিলেন। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ আগেই পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন কয়েকজন পাকিস্তানি নাগরিক ও লস্কর জঙ্গির বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, তাঁদের মধ্যে হাশিম মুসার নামও ছিল। পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA-র চার্জশিটেও পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর ও তার সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়।
এই অভিযানের আগে থেকেই ইউসমার্গের পাহাড়ি এলাকায় মুসার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল নিরাপত্তাবাহিনী। চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতে একই এলাকায় অভিযানের সময় লস্কর-ঘনিষ্ঠ জঙ্গি ইয়াসির নিহত হয়েছিল। সেই অভিযানের পর মুসা ঘন জঙ্গলের দিকে পালিয়ে গিয়েছিল বলে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি। ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তার গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোরাগ এলাকায় ফের অভিযান চালানো হয়।

আরও পড়ুন: আগরকরের পরে টিম ইন্ডিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন চিফ সিলেক্টর হলেন প্রজ্ঞান ওঝা! কী পরিকল্পনা BCCI-র?
মুসার মৃত্যু উপত্যকায় সক্রিয় লস্কর-ই-তৈবার নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। তবে এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে, এমনটা বলা হয়নি। সেনা ও অন্যান্য নিরাপত্তাবাহিনী আশপাশের জঙ্গল এবং পাহাড়ি এলাকায় আরও কোনও জঙ্গি বা অস্ত্র মজুত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। পহেলগাঁও হামলার তদন্ত এবং উপত্যকায় জঙ্গি দমনের ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যেই এই এনকাউন্টার হওয়ায় নিরাপত্তা মহলে ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Jammu and Kashmir)।













