বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর মরশুমে ভিড় বাড়ে ট্রেনগুলিতে। এই সময় দূরপাল্লার ট্রেনগুলিতে খাবারের (Train Food) চাহিদাও অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে খাবার তৈরির জায়গা থেকে যাত্রীদের হাতে পৌঁছনো পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়ায় নজরদারি আরও জোরদার করতে প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে ভারতীয় রেল। এবার খাবারের মান এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতার উপর নজর রাখবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI।
ট্রেনের খাবার (Train Food) নিয়ে বড় পদক্ষেপ রেলের
ইস্ট সেন্ট্রাল রেলওয়ে বা ECR-এর অধীনে থাকা ট্রেনগুলির প্যান্ট্রি কার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলির বেস কিচেনে AI-চালিত CCTV বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানোর জন্য তৈরি হচ্ছে এই ব্যবস্থা। উদ্দেশ্য হল, রান্না, খাবার প্যাকেটজাত করা এবং পরে তা ট্রেনে সরবরাহ—প্রতিটি ধাপে কোনও অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা দ্রুত চিহ্নিত করা।
এই প্রযুক্তির ব্যবহারে রান্নাঘরে পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি কিংবা খাবার তৈরির সময় নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম না মানার মতো বিষয় AI-এর মাধ্যমে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। ফলে কোথাও সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা দ্রুত পৌঁছনোর সম্ভাবনা থাকবে।
ECR-এর আওতায় থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেস কিচেন এই নজরদারির আওতায় আসছে। পাটনা জংশন, রাজেন্দ্র নগর টার্মিনাল, দানাপুর এবং পাটলীপুত্রের মতো ব্যস্ত স্টেশন থেকে প্রতিদিন বহু দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রীদের জন্য খাবার তৈরি হয়। তাই এই রান্নাঘরগুলিতে খাবার প্রস্তুতির পরিবেশ এবং কর্মীদের কাজের উপর প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে রেলের আধিকারিকদের প্রতিটি জায়গায় সরাসরি উপস্থিত থাকার প্রয়োজন পড়বে না। দূর থেকেই লাইভ ফুটেজ দেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কোনও গাফিলতি চোখে পড়লে যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ আসার আগেই সংশ্লিষ্ট জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। খাবার পরিবেশনের পর সমস্যা খোঁজার বদলে প্রস্তুতির সময়েই ত্রুটি ধরাই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।
রেলের ক্যাটারিং পরিষেবায় এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পিছনে রয়েছে রেলওয়ে বোর্ডের নির্দেশ। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে IRCTC-এর ওয়ার রুম পরিদর্শনের সময় খাবারের গুণমান এবং হাইজিনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান সতীশ কুমার। সেই নির্দেশের পরই ECR-এর পক্ষ থেকে AI-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : বকেয়া সম্পত্তি করের সুদ ও পেনাল্টিতে ১০০ শতাংশ ছাড়! শহরবাসীর জন্য বড় উপহার কলকাতা পুরসভার
তবে নতুন প্রযুক্তি চালু হলেও যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর পুরনো ব্যবস্থাও থাকছে। ‘রেল মদদ’ বা Rail Madad প্ল্যাটফর্ম ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে। উৎসবের মরশুমের আগেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে রেল। এখন দেখার, AI-নির্ভর এই নজরদারি বাস্তবে খাবারের গুণমান, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা এবং ক্যাটারিং পরিষেবার ক্ষেত্রে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।













