কলকাতা বিমানবন্দরের কাছের মসজিদে নমাজ আপাতত বন্ধ, শুনানিতে উঠল হাইজ্যাক প্রসঙ্গ

Published on:

Published on:

Calcutta High Court mention hijack incident in a hearing
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় ধর্মীয় উপাসনার ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপত্তার প্রশ্নকে কোনওভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আবার দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ধর্মাচরণের সুযোগ হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এই নিয়ে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)।

কলকাতা বিমানবন্দর মামলায় কী রায় হাইকোর্টের (Calcutta High Court)?

কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে থাকা একটি মসজিদে নমাজ পড়ার অনুমতি চেয়ে দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী স্বস্তি পেলেন না আবেদনকারীরা। বৃহস্পতিবার সওয়াল-জবাব শেষ হলেও বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ এই মুহূর্তে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি।প্রসঙ্গত, বিমানবন্দর সংলগ্ন ওই মসজিদে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নমাজ পড়ার ব্যবস্থা ছিল বলে মামলাকারীদের দাবি। কিন্তু গত ১১ জুলাই থেকে সেখানে প্রার্থনা বন্ধ রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ফের মসজিদে ধর্মাচরণের অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মামলাকারীরা।

মামলার শুনানিতে আবেদনকারীদের হয়ে আইনজীবী কিশোর দত্ত দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ব্যবস্থার বিষয়টি সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ৪০-৫০ বছর ধরে ওই জায়গায় মানুষ নমাজ পড়ে আসছেন। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে মসজিদে যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তাঁর দাবি, এত বছর ধরে ওই পথে যাতায়াতের কারণে যদি নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়ে থাকে, তাহলে বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে নমাজ বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

কিশোর দত্ত আরও জানান, যে জমিতে মসজিদটি রয়েছে, সেটি এখনও অধিগ্রহণ করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেই যাতে সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়ে প্রার্থনা করতে পারেন, আদালতের কাছে সেই অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

অন্যদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের আইনজীবী গোপাল মুখোপাধ্যায় আদালতকে জানান, বিষয়টি শুধু মসজিদে নমাজ পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সেখানে বৈঠকও হয় বলে অভিযোগ। এমনকি রানওয়ের এলাকাতেও লোকজন ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটছে বলে আদালতের সামনে দাবি করা হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেই কর্তৃপক্ষের তরফে সওয়াল করা হয়।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকেও শুনানিতে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়। নিরাপত্তা নিয়ে দুপক্ষের বক্তব্য শোনার পর আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তার প্রসঙ্গও আসে বিচারপতির পর্যবেক্ষণে। ইজরায়েলের বিমান হাইজ্যাকের ঘটনার উল্লেখ করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, “এখন এই নিরাপত্তার ফাঁক গোটা বিশ্বে। কাল দুবাইয়ের ফ্লাইটের ঘটনা দেখুন।”

Calcutta High Court mention hijack incident in a hearing

আরও পড়ুন :পুজোর ছুটিতে অল্প টাকায় ঘুরে আসুন কালিম্পংয়ের অচেনা ফুরনগাঁও

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, “সরকার কাউকে ধর্মপালনে কোনওরকম বাধা দিচ্ছে না। তবে জাতীয় সুরক্ষা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আগে দেখতে হবে।” তবে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষ হওয়ার পরও মসজিদে নমাজ ফের চালুর বিষয়ে কোনও অন্তর্বর্তী অনুমতি দেয়নি হাই কোর্ট। অর্থাৎ, আপাতত আগের ব্যবস্থাই বহাল থাকছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ অক্টোবর। সেই শুনানিতে দীর্ঘদিনের ধর্মাচরণের দাবি এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা—দুই দিকের যুক্তি বিবেচনা করে আদালত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।