মাঝ আকাশে হামলার সম্মুখীন পাইলট! ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র, নেওয়া হচ্ছে বড় পদক্ষেপ

Published on:

Published on:

India takes a major decision, drawing lessons from the Flydubai incident.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফ্লাইদুবাইকাণ্ডের (Flydubai Incident) ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত ভারতের (India)। মাঝআকাশে ককপিটের ভিতরেই কো-পাইলটের হামলা, গুরুতর আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেন এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৪,৩০০ ফুট নীচে নেমে যাওয়া বিমান—ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073-র সেই ভয়াবহ ঘটনার পর এবার ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করল কেন্দ্র। অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ঘটনার পর ভারতীয় এয়ারলাইনগুলির জন্য নতুন কোনও নিরাপত্তা নির্দেশিকা বা অ্যাডভাইজরি জারি করা প্রয়োজন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অসামরিক বিমান পরিবহন সচিব সমীর কুমার সিনহা জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ আলোচনা হবে। প্রয়োজন মনে হলে সেই সুপারিশ উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

ফ্লাইদুবাইকাণ্ডের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত ভারতের (India):

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং 737 MAX 8 বিমানে। ১৭৪ জন যাত্রীকে নিয়ে বিমানটি সৌদি আরবের আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ককপিটে থাকা ওমানি কো-পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের উপর হামলা চালায় এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য। হামলার সময় বিমানটি মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে এবং প্রায় ১৪,৩০০ ফুট উচ্চতা হারায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা হামলাকারীকে কাবু করতে সাহায্য করেন। বিমানে থাকা আরও দুই পাইলট তখন ককপিটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান (India)।

আরও পড়ুন: প্রথম চেষ্টায় হয়েছেন ব্যর্থ! দ্বিতীয়বার ব্যবসা শুরু করে মাত্র ৩ বছরেই ৩ কোটির কোম্পানি গড়লেন মোহিতা

ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে ভারত সরকারও। অসামরিক বিমান পরিবহন সচিব সমীর কুমার সিনহা বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি যাত্রীদের রক্ষা করেছেন। বিদেশমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার তাঁকে আবু ধাবিতে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি কথা বলতে পারছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রথমে বিভিন্ন রিপোর্টে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছিল। পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, ককপিটে থাকা জরুরি ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ ব্যবহার করেই ক্যাপ্টেনের উপর হামলা চালানো হয়েছিল। তদন্তে কীভাবে সেই অস্ত্র ব্যবহার করা হল এবং হামলাকারীর উদ্দেশ্য কী ছিল, সেসবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি বিদেশি বিমান সংস্থা এবং অন্য দেশের আকাশসীমায় ঘটায় ভারত এখনই এর তদন্ত নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাইছে না। তবে দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ককপিটের নিরাপত্তা, পাইলটদের মধ্যে সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ হুমকি এবং জরুরি সরঞ্জামের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষ হওয়ার পরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

India takes a major decision, drawing lessons from the Flydubai incident.

আরও পড়ুন: উৎসবের মরসুমে চিনির পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতে বড় সিদ্ধান্ত! মজুতের নিয়ম কড়া করল কেন্দ্র

অন্যদিকে, ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজরায়েল—দুই পক্ষের তদন্তই এগিয়ে চলেছে। UAE-র অ্যাটর্নি জেনারেল হামলাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং হামলার উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে হামলাকারীর চূড়ান্ত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত এখনও চলছে। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার ঘটনাই শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনার পথ তৈরি করে। সেই ঘটনার পর এবার ভারতের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন প্রয়োজন কি না, সেটাই নজরে কেন্দ্রের (India)।