নয়া ফৌজদারি আইনে বদলাবে বিচারব্যবস্থার ছবি? ৩ বছরের মধ্যে বিচার সম্পন্নের কথা জানালেন অমিত শাহ

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ‘তারিখ পে তারিখ’—ভারতের (India) বিচারব্যবস্থাকে নিয়ে দীর্ঘদিনের এই পরিচিত কটাক্ষ এবার বদলানোর লক্ষ্যের কথা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শনিবার ভোপালে নতুন ফৌজদারি আইন (Criminal Law) নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আইনগুলির পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে এফআইআর দায়ের থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিচারপ্রক্রিয়া তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকার বদলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার শেষ করার একটি কাঠামো তৈরি করাই কেন্দ্রের অন্যতম লক্ষ্য। তবে এটি বর্তমানে প্রতিটি মামলার জন্য স্বয়ংক্রিয় তিন বছরের আইনি গ্যারান্টি নয়, বরং নতুন ব্যবস্থার পূর্ণ বাস্তবায়নের পর সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য।

নয়া ফৌজদারি আইনে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন অমিত শাহের (Amit Shah)

ভোপালের অনুষ্ঠানে শাহ বলেন, একসময় ভারতের (India) বিচারব্যবস্থা ‘তারিখ পে তারিখ’-এর জন্য পরিচিত ছিল। তাঁর দাবি, নতুন ফৌজদারি আইন পুরোপুরি কার্যকর হলে সেই চিত্র বদলাবে এবং এফআইআর থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিচারপ্রক্রিয়াকে সময়বদ্ধ করার ব্যবস্থা তৈরি হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর ফলে ভারতের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা বিশ্বের আধুনিক ব্যবস্থাগুলির অন্যতম হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে মাদক পাচার ও মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি। মধ্যপ্রদেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

আরও পড়ুন: প্রেমে বিচ্ছেদ থেকে একের পর এক ব্যর্থতা! সব পেরিয়ে AIR 498 স্থান পেয়ে UPSC জয় উৎকর্ষের

ভারতে নতুন ফৌজদারি আইনের যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালের ১ জুলাই। ওই দিন থেকে ভারতীয় দণ্ডবিধির বদলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ফৌজদারি কার্যবিধির বদলে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের বদলে ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম কার্যকর হয়। এই তিন আইনের মাধ্যমে তদন্ত, বিচার ও প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজিটাল প্রক্রিয়া, ই-এফআইআর, জিরো এফআইআর এবং ফরেনসিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার মাধ্যমে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় দেরি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থায় ফরেনসিক বিজ্ঞানের গুরুত্বও বাড়ানো হয়েছে। সাত বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ফরেনসিক তদন্তকে বাধ্যতামূলক করার মতো ব্যবস্থার কথা কেন্দ্র আগেই জানিয়েছে। তদন্ত থেকে শুরু করে পুলিশ, প্রসিকিউশন এবং আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা আনার লক্ষ্যও রয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে তদন্তের মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি প্রমাণ সংগ্রহ এবং আদালতে তা উপস্থাপনের প্রক্রিয়াও দ্রুত হতে পারে। ফলে দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই নতুন আইনি কাঠামোর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে শাহ জানিয়েছেন।

Amit Shah made a major announcement on the judicial proceedings under the new criminal laws.

আরও পড়ুন:ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে ‘উল্লাস’ আল-কায়দা-সমর্থকদের! ঘটনার প্রশংসা করে বড় হুমকি আল-কায়দার

অমিত শাহের (Amit Shah) বক্তব্যে নতুন আইনের দর্শন নিয়েও স্পষ্ট বার্তা ছিল। তাঁর দাবি, ঔপনিবেশিক আমলে তৈরি পুরনো আইনগুলির মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনকে সুরক্ষিত রাখা, আর নতুন আইনগুলির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে সাধারণ নাগরিকের মর্যাদা, সম্পত্তি ও শারীরিক নিরাপত্তা। তাঁর কথায়, নতুন ব্যবস্থার মূলনীতি হল ‘শাস্তি নয়, ন্যায়বিচার’। কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে তিন আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ও ফরেনসিক ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সময়বদ্ধ করার চেষ্টা চলবে। এখন দেখার, এই লক্ষ্য বাস্তবে কতটা দ্রুত কার্যকর হয় এবং বহুদিনের ‘তারিখ পে তারিখ’-এর অভিযোগ সত্যিই কতটা কমানো সম্ভব হয়।