বাংলা হান্ট ডেস্ক : বীরভূমের (Birbhum) সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এবার বড়সড় পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তুতি। জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরির জন্য ৫০৮.৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক। দীর্ঘদিন ধরে যে কাজগুলি আটকে ছিল, কেন্দ্রের এই অর্থ বরাদ্দের ফলে সেগুলি ফের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বীরভূমের (Birbhum) সড়ক সম্প্রসারণে বড় বরাদ্দ কেন্দ্রের
এই প্রকল্পের আওতায় জাতীয় সড়ক ১৪ এবং ১১৪-এর মোট ১৪৮ কিলোমিটারের বেশি রাস্তার উন্নয়ন করা হবে। ভীমগড় থেকে নলহাটি পর্যন্ত এনএইচ ১৪-এর ৯১.৯০ কিলোমিটার অংশ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, এনএইচ ১১৪-এর সুরুল থেকে মল্লারপুর পর্যন্ত প্রায় ৫৬.৪০ কিলোমিটার রাস্তার পরিসরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি দুই রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় পথ নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজও হবে।
কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতীন গড়করি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে এই বরাদ্দের কথা প্রকাশ্যে আনেন। জাতীয় সড়কগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে শুধু যান চলাচলই সহজ হবে না, বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহণেও তার প্রভাব পড়বে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পোস্টে বলেছেন, “জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ হলে একাধারে যানজট কমবে, কম সময়ে বেশি পথ অতিক্রম করা যাবে। অন্যদিকে গ্রাম ও শহরের মধ্যে যোগাযোগ আরও মসৃণ হবে। তাতে আর্থিক বিকাশেরও রাস্তাও সুগম হবে। গতিশক্তি প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের লক্ষ্য, স্থানীয় স্তরে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, পথ নিরাপত্তা বৃদ্ধি। গণপরিবহণের পাশাপাশি পণ্য পরিবহণ আরও উন্নত করা।”
গড়করির ঘোষণার পরই বিষয়টি সামনে এনে কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পোস্ট শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের পরিবহণ পরিকাঠামোকে আরও কার্যকর করে তুলতে এই বরাদ্দ গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন : জেন জি-কে কাছে টানতে বড় পরিকল্পনা, বিজেপির কমিটিতে বাড়ছে তরুণদের জায়গা
তবে বরাদ্দের পাশাপাশি রাজ্যের আগের পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, গত দশ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার হয়েছে এবং কেন্দ্রের কাছ থেকে পাওয়া অর্থও যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। বর্তমান সরকার মসৃণ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বীরভূমের ক্ষেত্রে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় সড়ক চওড়া হওয়ার ফলে যান চলাচলের চাপ সামলানোর পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে সময়ও কমতে পারে।













