বাংলা হান্ট ডেস্ক : একটি পুরনো রাজনৈতিক বিতর্ক এবার আইনি মোড় নিল। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম পর্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পায়ের চোট সংক্রান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর সেই নথি কীভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে SSKM হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য ভবনে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। ফলে পাঁচ বছর আগের পায়ের চোটের বিতর্ক এখন নতুন করে মেডিক্যাল গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের অধিকার নিয়ে আলোচনায় এসেছে।
SSKM-কে আইনি নোটিশ পাঠাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)
মমতার তরফে পাঠানো আইনি চিঠির মূল বক্তব্য, কোনও সরকারি দফতর বা তদন্তকারী সংস্থার কাছে কোনও ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি থাকলেই সেটি প্রকাশ্যে আনার অধিকার তৈরি হয় না। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সাংবিধানিক অধিকারকেও এই আইনি পদক্ষেপের অন্যতম ভিত্তি করা হয়েছে। নোটিসে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ রয়েছে।
মমতার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া এমন তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে।চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বের বিষয়টিও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। Indian Medical Council (Professional Conduct, Etiquette and Ethics) Regulations, 2002-এর প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়েছে, রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা চিকিৎসকের দায়িত্ব। নির্দিষ্ট আইনি অনুমতি ছাড়া সেই তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়—এমন দাবিই করা হয়েছে আইনি চিঠিতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হলেও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার অধিকার বজায় থাকে—নোটিসে এই বিষয়টিও আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে রিপোর্টটি কোন প্রক্রিয়ায় সরকারি নথি থেকে প্রকাশ্যে এল, কার মাধ্যমে তা সংবাদমাধ্যমে পৌঁছল এবং সেই ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নই এখন সামনে।
উল্লেখ্য, এই আইনি পদক্ষেপের ঠিক আগে ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম কাণ্ডের পায়ের চোট নিয়ে নতুন করে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের রেডিও ডায়াগনস্টিক বিভাগের ১১ মার্চ ২০২১-এর একটি রিপোর্ট দেখান। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁর দাবি, মমতার পায়ে ফ্র্যাকচারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সিআইডি তদন্তের কথাও জানান তিনি। সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামে আমি একটা বক্তব্যে বলেছিলাম, ২০২১ সালে পুরো নন্দীগ্রামকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অপমান করেছিলেন। ওঁর পা নাকি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।” এরপরই বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স, ডিপার্টমেন্ট অব রেডিও ডায়াগোনাস্টিকের ২০২১ সালের ১১ মার্চের রিপোর্ট দেখিয়ে বলেন, “নো এভিডেন্স অব ফ্র্যাকচার। আমি এটা নিয়ে বাড়তি কিছু বলছি না। সিআইডি তদন্ত করছে। নির্বাচনী বিধি উঠে গেলে এই মিথ্যে প্রচারের জন্য আমরা নতুন করে তদন্ত করবে। এটা আমি ৯ তারিখের পরে জানাব।”
২০২১ সালের ঘটনাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় নন্দীগ্রামে প্রচারের মাঝেই পায়ে চোট পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন এবং পরে প্লাস্টার করা পায়ে হুইলচেয়ারে প্রচার করেছিলেন। সেই পুরনো ঘটনাকেই কেন্দ্র করে এখন মেডিক্যাল রিপোর্টের তথ্য সামনে আসায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন :চাকরি থাকবে ৬০ বছর পর্যন্ত? পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মীদের নিয়ে বড় বার্তা দিলীপ ঘোষের
এই বিতর্কে গণতান্ত্রিক তৃণমূল নেতা শান্তনু সেনও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের ছবিও পোস্ট করেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ” আমরা আগেই বলেছিলাম। সেই সময় বাংলার মানুষ ২০২১ সালে ওঁকেই বিশ্বাস করেছিলেন। এখন মিথ্যাটা সরে সত্যিটা প্রকাশ্যে এসেছে। তাই উনি এখন রিয়্যাক্ট করবেন, রাগ করবেন, মাথা গরম করবেন এটাই স্বাভাবিক। মমতার বৈশিষ্ট্য তাই পাঠিয়েছেন। হাসপাতাল আর স্বাস্থ্য ভবন এর জবাব দেবে।” শেষ পর্যন্ত এই আইনি নোটিসের জবাবে SSKM হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য ভবন কী ব্যাখ্যা দেয়, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।













