বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিগত কয়েক বছরে মোবাইল রিচার্জের দাম (Recharge Plan) যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়েও মোবাইল রিচার্জের দাম বৃদ্ধি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে, টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া তথা TRAI এখনও কোনও সম্ভাব্য ট্যারিফ বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। এই আবহেই সিএনবিসি-টিভি১৮-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে TRAI-এর চেয়ারম্যান অনিল কুমার লাহুতি বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন যে, টেলিকম সংস্থাগুলি যদি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে TRAI শুধুমাত্র জল্পনার ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ নেবে না। তিনি এটাও জানিয়েছেন যে, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী টেলিকম ট্যারিফ ফরবিয়ারেন্সের (Telecom Tariff Forbearance) আওতাধীন। অর্থাৎ, সংস্থাগুলি তাদের পরিষেবার মূল্য নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারে। TRAI বাজারে প্রতিযোগিতা ও শুল্ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
রিচার্জ প্ল্যানের (Recharge Plan) দাম বৃদ্ধির জল্পনার আবহেই কী জানালেন TRAI-র চেয়ারম্যান?
সিএনবিসি-টিভি১৮ TRAI-র চেয়ারম্যানের কাছে সরাসরি জানতে চায় টেলিকম সংস্থাগুলি মোবাইল ট্যারিফ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়ালে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি হস্তক্ষেপ করবে কিনা? এই প্রসঙ্গে অনিল কুমার লাহুতি বলেন যে, TRAI জল্পনা বা অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তিনি বলেন যে, ভবিষ্যতে কোনও পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হলে TRAI ব্যবস্থা নেবে। তার মানে, ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়ে TRAI-এর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও অনুমোদন বা নিশ্চিতকরণ আসেনি।

মোবাইল রিচার্জের মূল্য কে নির্ধারণ করে: তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় ট্যারিফ ফরবিয়ারেন্সের
আওতাধীন। এর মানে হল, মোবাইল সংস্থাগুলি নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করতে পারে। সংস্থাগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতাও রয়েছে। এই কারণে তারা তাদের প্ল্যানের দাম ও সুবিধার ওপর ভিত্তি করে গ্রাহক আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। TRAI-এর কাজ হলো বাজার পর্যবেক্ষণ করা এবং নিয়মকানুন মেনে চলা নিশ্চিত করা।
ভারতে মোবাইল ট্যারিফ কী বিশ্বে সর্বনিম্ন: TRAI-এর চেয়ারম্যান ভারতীয় টেলিকম বাজারের প্রতিযোগিতার কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন যে, ভারতে ট্যারিফ সম্ভবত বিশ্বে সর্বনিম্ন। এর মানে হল, অন্যান্য অনেক বাজারের তুলনায় ভারতীয় গ্রাহকরা অপেক্ষাকৃত কম দামে মোবাইল এবং ডেটা পরিষেবা ব্যবহার করছেন। তবে, সংস্থাগুলি যদি ট্যারিফ বাড়ায়, তাহলে তা গ্রাহকদের মাসিক মোবাইল খরচের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, গ্রাহকরা সম্ভাব্য ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির জল্পনার দিকে নজর রাখছেন।
আরও পড়ুন: একী কাণ্ড! মাছ ধরার জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানের সেনা ঘাঁটি, নেপথ্যে কোন কারণ?
এদিকে, এই আলোচনার সময়ে TRAI-র চেয়ারম্যান শুধু ট্যারিফ বৃদ্ধিই নয়, ভয়েস ও SMS-অনলি প্ল্যান সংক্রান্ত পরিস্থিতিও স্পষ্ট করেছেন। TRAI টেলিকম সংস্থাগুলিকে এমন প্ল্যান চালু করার নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে গ্রাহকরা ডেটার প্রয়োজন ছাড়াই শুধু ভয়েস কল ও SMS-এর জন্য অর্থ প্রদান করবেন। অনিল কুমার লাহুতির মতে, এ ব্যাপারে সংস্থাগুলির কাছ থেকে এখনও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই নিয়মটি ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে এবং সংস্থাগুলিকে তা মেনে চলতে হবে।
লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের ডেটার প্রয়োজন নেই: TRAI-এর যুক্তি হল, বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের ডেটার প্রয়োজন নেই। ভারতে লক্ষ লক্ষ ফিচার ফোন ব্যবহারকারী আছেন। যাঁরা মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। এছাড়াও, এমন অনেক বয়স্ক গ্রাহক আছেন যাঁদের ইন্টারনেট ডেটার প্রয়োজন হয় না বা যাঁরা ডেটা পরিষেবা ব্যবহার করেন না। ওই গ্রাহকদের জন্য ডেটাসহ দামি রিচার্জ নেওয়ার পরিবর্তে শুধু কল ও SMS করার বিকল্পটি আরও বেশি সুবিধাজনক হতে পারে। TRAI-এর চেয়ারম্যানের মতে, গ্রাহকদের কেবল তাঁদের প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিই কেনার সুযোগ থাকা উচিত। এর সহজ অর্থ হল, কোনও গ্রাহক যদি ইন্টারনেট না চান, তাহলে তাঁকে ডেটার জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে না।













