‘কর্মই আমার ধর্ম’, ২৫ বছরের প্রশাসনিক সফরে বড় বার্তা মোদীর! দিলেন নতুন অধ্যায়ের সূচনার ডাক

Published on:

Published on:

Narendra Modi sends a strong message marking a 25-year administrative journey.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: “কর্মই আমার ধর্ম”—২৫ বছর ধরে জনসেবা এই বার্তাকেই সামনে রেখে নিজের দীর্ঘ প্রশাসনিক যাত্রার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বুধবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’ (Vikashit Bharat Sankalp)-য় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই ২৫ বছরের পথচলা শুধু পিছন ফিরে দেখার সময় নয়, বরং আগামী দিনের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করার সময়। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের (Gujarat) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন—এই দীর্ঘ সময়কে তিনি জনতার আস্থা, কর্মীদের পরিশ্রম এবং দেশসেবার অভিজ্ঞতার বড় সম্পদ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, এই অভিজ্ঞতা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত নয়, দেশেরও সম্পদ।

২৫ বছরের প্রশাসনিক সফরে বড় বার্তা দিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনার ডাক মোদীর (Narendra Modi)

ভাষণের বড় অংশজুড়েই ছিল দায়িত্ব, কর্ম এবং আত্মনিবেদনের প্রসঙ্গ। ভগবদ্গীতার ‘কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন’ শ্লোকের উল্লেখ করে মোদি (Narendra Modi) বলেন, কাজ করে যাওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ফল বা ব্যক্তিগত কৃতিত্বের দিকে তাকিয়ে থাকা নয়। নিজেকে দেশের ‘সেবক’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার পিছনে না ছুটে কোনও বড় উদ্দেশ্য নিয়ে জীবন কাটানো। সেই ভাবনা থেকেই যে দায়িত্বই পেয়েছেন, তা পালন করে গিয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, দেশসেবাকে তিনি শুধু দায়িত্ব হিসেবে নয়, এক ধরনের সাধনা হিসেবেই দেখেন।

আরও পড়ুন: এক শতাব্দী ধরে চলছিল যে রহস্যভেদের চেষ্টা, তার সমাধান খুঁজে রসায়নে নোবেল দুই বিজ্ঞানের

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথাও এদিন স্মরণ করেন মোদি। তাঁর দাবি, এই পথচলায় কোনও ঘটনা বা অভিজ্ঞতাই বৃথা যায়নি। সাফল্য যেমন শিক্ষা দিয়েছে, তেমনই বাধা, বিরোধিতা এবং কঠিন সময়ও তাঁকে নতুন করে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছে। নিজেকে এখনও ‘শিক্ষার্থী’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখার আগ্রহ যেন কখনও কমে না যায়। করোনা মহামারি থেকে শুরু করে দেশের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ এবং মাওবাদ মোকাবিলার মতো বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতির কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। একইসঙ্গে দেশের আত্মনির্ভরতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণের শুরুতেই দেশবাসীকে মাথা নত করে প্রণাম জানান মোদি। ২৫ বছরের এই যাত্রার জন্য তিনি সাধারণ মানুষ, দলীয় কর্মী এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি নির্বাচনে মানুষ তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা তাঁর কাছে আশীর্বাদের মতো। ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ভবিষ্যতে এই জায়গায় পৌঁছবেন, তা ভাবেননি বলেও জানান তিনি। স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনার উল্লেখ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং দায়িত্ববোধের উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

Narendra Modi sends a strong message marking a 25-year administrative journey.

আরও পড়ুন: বড় ছাড়! কোন কোন পেমেন্টের ক্ষেত্রে MDR মাত্র ৫ টাকা? জানিয়ে দিল NPCI

তবে ২৫ বছরের সাফল্যকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে দেখতে চান না বলেই এদিন বারবার বোঝান মোদি (Narendra Modi)। তাঁর বক্তব্যে বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার ডাকই বেশি জোরালো ছিল। ‘উই উইল ডু ইট’—এই বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্য পূরণে দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়া এবং আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অর্থাৎ, তাঁর কাছে ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রা কোনও সমাপ্তি নয়; বরং নতুন দায়িত্ব, নতুন লক্ষ্য এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।