হাতির জন্যও থাকবে রাস্তা! উত্তরবঙ্গে ৫টি আন্ডারপাসের জন্য ২০৭৭ কোটির প্রজেক্ট রাজ্য সরকারের

Published on:

Published on:

6 Underpass to be build in NH-327 project for safe elephant passage
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের তথা সারা ভারতবর্ষের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যটন কেন্দ্র হল উত্তরবঙ্গ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরপুর একটি উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু অংশ যেটা যেমন পাহাড় রয়েছে তেমনি এখানকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে কি হয়েছে সবুজ ঘেরা ঘন বনভূমি। তাই উত্তরবঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে (North Bengal Transportation) আরো বেশি উন্নত করে তুলতে ইতিমধ্যে সড়ক কথাই পাশাপাশি রেল পরিবহন ব্যবস্থার ওপরেও দেওয়া হয়েছে। আর এবার উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল গুলিতে হাতিদের চলাচলের (Elephant Passage) সুবিধার জন্য বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)।

বাগডোগরা –পানিট্যাঙ্কির মাঝে NH-327 এ ৫টি আন্ডারপাস

যার ফলে বাংলায় এই প্রথমবার দার্জিলিং জেলার বাগডোগরা এবং পানিট্যাঙ্কির মধ্যে ন্যাশনাল হাইওয়ে ৩২৭ (NH-327) বরাবর বিশাল এই হাতির পালের চলাচলের সুবিধার জন্য মোট পাঁচটি আন্ডারপাস (Underpass) নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এই নির্দিষ্ট আন্ডারপাস নির্মাণ করা হলে বন্যপ্রাণীদের চলাচল শুধু নিরাপদই নয় আরো বেশি সহজতর হয়ে উঠবে।

জানা যাচ্ছে, এনএইচ ৩২৭-কে চার লেনে সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে, বন বিভাগ কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের কাছে আন্ডারপাস নির্মাণ করার প্রস্তাব দিয়েছে। মূলত প্রধান রাস্তার নিচ দিয়ে হাতির যাতায়াতের জায়গা থাকবে। এছাড়া এই দীর্ঘ জাতীয় সড়কের মাঝে, একাধিক জায়গায় হাতির যাতায়াতের জন্য বেশ কিছু প্যাসেজ থাকবে। এর জন্য আনুমানিক ২০৭৭ কোটি টাকা খরচ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ৯৯% অবধি ছাড়! সম্পত্তি করে ‘ওয়েভার স্কিম’ চালু কলকাতা পুরসভার

উল্লেখ্য যে সমস্ত জায়গায় প্যাসেজ বা এলিফ্যান্ট করিডর থাকবে, সেখান থেকে রাস্তার উচ্চতা কিছুটা বেশি হতে পারে। একসঙ্গে অনেক হাতির পাল যাতে সড়কের নীচ দিয়ে যেতে পারে, তার জন্যই এই জায়গা করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, জাতীয় সড়কের নীচের অংশে নির্মিত হাতির চলাচলের এই পথগুলো একত্রে প্রায় ১,৮০০ মিটার দীর্ঘ হবে। সূত্রের খবর নির্দেশ অনুযায়ী ৫ই অক্টোবর, বন বিভাগ কর্তৃক গঠিত বনবিদ ও বন্যপ্রাণী বিজ্ঞানীদের একটি দল ওই এলাকাগুলো পর্যালোচনা করেছে।

জানা যাচ্ছে, প্রতিটি আন্ডারপাস প্রায় ৭ মিটার উঁচু এবং ২২ মিটার চওড়া হবে, যার ফলে হাতিদের বড় দলও পাশাপাশি চলাচল করতে পারবে। এছাড়া দীর্ঘতম আন্ডার পাস যেটি, প্রায় ৭০০ মিটার চওড়া সেটি নকশালবাড়ির কিরণচন্দ্র চা বাগানে প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বাগডোগরার সন্ন্যাসী চা বাগানে ৩১৫ মিটার দীর্ঘ একটি আন্ডারপাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং দেওমনির জন্য ৪৯০ মিটার দীর্ঘ আরেকটি আন্ডারপাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।