বাংলা হান্ট ডেস্ক : নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি শিবিরে উচ্ছ্বাস। ভোটের লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হাসিরানি রথ (Hasirani Rath)। গণনার প্রথম পর্ব থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের পিছনে ফেলে এগিয়ে ছিলেন তিনি। পরবর্তী রাউন্ডগুলিতে ব্যবধান আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ২৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ের কথা জানিয়ে হাসিরানি স্পষ্ট করেন, এই সাফল্য এসেছে দলের নেতৃত্ব ও সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।
কী বললেন হাসিরানি রথ(Hasirani Rath) ?
জয়ের মুহূর্তেও প্রয়াত চন্দ্রনাথের কথা মনে করে আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি। নিজের জয়ের হিসাব তুলে ধরে হাসিরানি বলেন, ‘টার্গেট ছিল ১ লক্ষ ১০। আমাদের নেতৃত্ব সংগঠন সবাই মিলে সেটাকে ১ লক্ষ প্রায় ২৩-এ নিয়ে গিয়েছে’। তাঁর মতে, ভোটের অঙ্কে প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে বিজেপি। এই ফলের পিছনে সংখ্যালঘু ভোটেরও কিছুটা ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। যদিও তাঁর ধারণা, মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা এখনও সব মানুষের কাছে পৌঁছয়নি। আগামী দিনে আরও মানুষ তাঁদের পাশে আসবেন বলে আশাবাদী বিজেপি প্রার্থী।
জয়ের আনন্দের মাঝেও চন্দ্রনাথকে হারানোর বেদনা তাঁর কথায় বারবার ফিরে আসে। হাসিরানির কথায়, “আজকের এই আনন্দ ও উৎসাহ চন্দ্রনাথকে ছাড়া বৃথা মনে হচ্ছে।” বিচার পাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী যে লড়াই করছেন, তার উল্লেখ করে তিনি বলেন, চন্দ্রনাথকে নিজের ভাইয়ের মতো ভালোবাসতেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর তাঁর উপর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি প্রার্থী।
নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ইতিহাসের নিরিখেও এই ফলকে উল্লেখযোগ্য বলে তুলে ধরেছেন হাসিরানি। তাঁর দাবি, ২০১৫ সালে তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের ব্যবধানকেও তিনি ছাপিয়ে গিয়েছেন। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু যে ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, উপনির্বাচনের ফল সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।

আরও পড়ুন : পুজোর আগেই নতুন রূপে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট! শহরবাসীর উদ্দেশে বড় আবেদন অগ্নিমিত্রার
এত বড় ব্যবধানে জয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আগের নির্বাচনগুলির পরিবেশের সঙ্গে এবারের পরিস্থিতির তুলনা করেন হাসিরানি। তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূল সরকারের আমলে অত্যাচার ও অবিচারের পরিবেশ ছিল এবং রক্তপাতের বিনিময়ে নির্বাচন হয়েছিল। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে হাসিরানি বলেন, এবারের ভোটে কোনও প্রাণহানি হয়নি, শোনা যায়নি বোমা বা বন্দুকের আওয়াজও। এই পরিস্থিতিকেই তিনি ‘নন্দীগ্রামের গণতন্ত্র’ বলে বর্ণনা করেন।













