বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আসিম মুনিরের (Asim Munir) পরিকল্পনাকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বালোচিস্তানে (Balochistan) বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গি তৎপরতা এবং দেশের দুর্বল অর্থনীতি—সব মিলিয়ে চাপে রয়েছে ইসলামাবাদ। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের চারটি প্রদেশকে ছোট ছোট প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করার পরিকল্পনা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই উদ্যোগের পক্ষে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হয়েছে, এমন কোনও সরকারি ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি।
কেন পাকিস্তানকে ভেঙে টুকরো করার পরিকল্পনা করছেন আসিম মুনির (Asim Munir)?
বর্তমানে পাকিস্তানের চারটি প্রদেশ হল পাঞ্জাব, সিন্ধু, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালোচিস্তান। রিপোর্ট অনুযায়ী, এগুলিকে ভেঙে ১২ থেকে ১৫টি নতুন প্রদেশ তৈরির একটি প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। অন্য একটি বিকল্পে প্রায় ১৬০টি প্রশাসনিক এলাকায় স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। তবে দুটি প্রস্তাব এক নয়। এই পরিবর্তনের পিছনে প্রশাসনিক সুবিধার যুক্তি তুলে ধরা হলেও, এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা বাড়বে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুন: নেটমাধ্যমেও SIR বিক্ষোভের উত্তাপ! সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের
পাকিস্তানের জনসংখ্যা ও আয়তনের বৈষম্যও এই বিতর্কের অন্যতম কারণ। পাঞ্জাবে প্রায় ১২.৮ কোটি মানুষের বাস, যা দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। অন্যদিকে, আয়তনে বৃহত্তম বালোচিস্তানে জনসংখ্যা তুলনায় অনেক কম। বড় প্রদেশে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন—এমন যুক্তি দীর্ঘদিন ধরেই উঠে এসেছে। পরিকল্পনার সমর্থকদের দাবি, ছোট প্রশাসনিক ইউনিট তৈরি হলে সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছনো সহজ হতে পারে।
তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, প্রদেশগুলির ক্ষমতা খর্ব হলে আঞ্চলিক রাজনৈতিক শক্তিগুলির প্রভাব কমতে পারে এবং কেন্দ্রের হাতে আরও ক্ষমতা জমা হতে পারে। বিশেষ করে বালোচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পাক প্রশাসন। সেই আবহে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগকে কেউ কেউ বিদ্রোহ মোকাবিলার কৌশল হিসেবেও দেখছেন। তবে বিদ্রোহ দমনই এই পরিকল্পনার একমাত্র উদ্দেশ্য, এমন দাবি নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

আরও পড়ুন: LPG আমদানিতে বড় বদল! ভারতে রান্নার গ্যাসের সরবরাহে আমেরিকাকে টেক্কা দিল এই দেশ
পাকিস্তানের মানচিত্রে এমন বড় পরিবর্তন আনতে হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন। প্রদেশের সীমানা বদলানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক বিধানসভা ও জাতীয় সংসদের অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাধা রয়েছে। ফলে সেনাপ্রধানের ইচ্ছাতেই রাতারাতি প্রদেশ ভেঙে নতুন কাঠামো তৈরি করা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক ঐকমত্য, সাংবিধানিক অনুমোদন এবং নতুন ব্যবস্থায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কতটা বজায় থাকে, তার উপর (Asim Munir)।













