বাংলাহান্ট ডেস্ক: নতুন বছরে এবেতনবৃদ্ধির আশায় থাকা ভারতের (India) চাকরিজীবীদের (Professionals) জন্য সুখবর দিল আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা সংস্থা এওন (Eon)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ভারতে কর্মরত চাকরিজীবীদের বেতন গড়ে ৯.১ শতাংশ বাড়তে পারে। দেশের ৪৫টি শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ১২০০-রও বেশি সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ার ফলে বিভিন্ন সংস্থার ব্যবসায়িক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর জেরে অনেক সংস্থার মুনাফাও বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কর্মীদের বেতন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই পূর্বাভাসের অর্থ এই নয় যে, দেশের প্রত্যেক চাকরিজীবীর বেতন একই হারে বাড়বে। সংস্থা, শিল্পক্ষেত্র, কর্মীর দক্ষতা এবং কাজের গুরুত্বের উপর নির্ভর করেই চূড়ান্ত বেতনবৃদ্ধির হার নির্ধারিত হতে পারে।
ভারতে (India) ২০২৭-এ লাফিয়ে বাড়তে পারে চাকরিজীবীদের বেতন, রিপোর্টে এল চমকপ্রদ তথ্য
এওনের রিপোর্টে বেতনবৃদ্ধির পিছনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কাছে দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। উন্নত বেতন এবং ভালো সুযোগ-সুবিধার আশায় অনেক কর্মীই এক সংস্থার চাকরি ছেড়ে অন্য সংস্থায় যোগ দিচ্ছেন। ফলে অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখতে সংস্থাগুলিকে নতুন করে বেতন কাঠামো পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব কর্মীর দক্ষতা সংস্থার ব্যবসা পরিচালনা এবং উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, তাঁদের জন্য বেশি অর্থ বরাদ্দ করার প্রবণতা বাড়ছে। তবে সব কর্মীর বেতন সমান হারে বাড়ানোর পরিবর্তে সংস্থাগুলি প্রয়োজন এবং কর্মদক্ষতা বিচার করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে বেতনবৃদ্ধির পূর্বাভাস আশাব্যঞ্জক হলেও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে তার প্রভাব একেক জনের জন্য একেক রকম হতে পারে (India)।
শিল্পক্ষেত্রের নিরিখে বিচার করলে, ২০২৭ সালে তিনটি ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি বেতনবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানি বা এনবিএফসি। এই ধরনের আর্থিক সংস্থাগুলি সাধারণত ঋণ প্রদান-সহ বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা দিয়ে থাকে। রিপোর্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ক্ষেত্রে কর্মীদের বেতন গড়ে ১০.১ শতাংশ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রের সংস্থাগুলিতে বেতনবৃদ্ধির সম্ভাব্য হার ৯.৯ শতাংশ। আবাসন বা রিয়েল এস্টেট শিল্পে এই হার ৯.৮ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। যদিও এগুলি সম্ভাব্য গড় বৃদ্ধির হার, তাই প্রতিটি সংস্থায় বা প্রতিটি পদে একই হারে বেতন বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক অবস্থা এবং কর্মীদের ভূমিকার উপরেও বেতনবৃদ্ধি নির্ভর করবে।
এওনের ট্যালেন্ট সলিউশনস ইন্ডিয়ার পার্টনার এবং রিওয়ার্ডস কনসাল্টিং লিডার রূপাঙ্ক চৌধুরীর বক্তব্যেও দক্ষ কর্মীদের গুরুত্বের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, সংস্থাগুলি এখন কর্মীদের বেতনবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনেক বেশি হিসেবি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যে কর্মীদের বিশেষ দক্ষতা রয়েছে এবং যাঁদের ছাড়া সংস্থার কাজ চালানো কঠিন, তাঁদের ধরে রাখতে তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ফলে শুধুমাত্র সংস্থার সামগ্রিক ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, কর্মীর ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং সংস্থার কাছে তাঁর প্রয়োজনীয়তাও বেতনবৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই প্রবণতার কারণে একই সংস্থায় কাজ করা দুই কর্মীর বেতনবৃদ্ধির হারেও পার্থক্য দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়াও ভবিষ্যতে পেশাগত উন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আরও পড়ুন: মার্চেন্ট নেভি অফিসার স্বামীকে খুনের পর দেহ নীল ড্রামে! মুসকান ও তার প্রেমিকের ফাঁসির সাজা
তবে বেতনবৃদ্ধির এই সম্ভাবনার পাশাপাশি চাকরির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ায় বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগ এবং কাজের ধরনে পরিবর্তন আসছে। কিছু ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় কর্মীসংখ্যা কমানোর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ছাঁটাইয়ের হার ছিল ১৭.১ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে তা ১৬.২ শতাংশে নেমেছিল। ২০২৬ সালে এই হার ১৮ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানের সংজ্ঞা ও উৎস মূল রিপোর্ট থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালে গড়ে ৯.১ শতাংশ বেতনবৃদ্ধির পূর্বাভাস চাকরিজীবীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করলেও, দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তন এবং চাকরির স্থায়িত্বের বিষয়গুলিও সমান গুরুত্ব পেতে চলেছে (India)।














