বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজ এক অভিনব উদ্যোগের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) নিয়ে এসেছি আপনাদের জন্য।শীতের মরশুম এলেই দিল্লি (Delhi)-NCR-সহ উত্তর ভারতের (India) বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বায়ুদূষণ নতুন করে উদ্বেগ বাড়ায়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটার পর জমিতে পড়ে থাকা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ফলে বাতাসে মেশে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া। এই সমস্যার মোকাবিলায় সাধারণত প্রশাসনিক পদক্ষেপের উপর জোর দেওয়া হলেও, দুই আইআইটি স্নাতক কৃষি বর্জ্যকেই ব্যবসার সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁদের উদ্যোগে তৈরি সংস্থা ‘ধারাক্ষা ইকোসলিউশনস’ এখন ধানের খড় থেকে তৈরি করছে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং সামগ্রী। সংস্থাটির বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ২.৫ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে, ফসলের অবশিষ্টাংশের কার্যকর ব্যবহার করে দূষণ কমানোর প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে এই স্টার্টআপ।
আনন্দ ও অর্পিতের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন আনন্দ বোধ ও অর্পিত ধূপার। দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে তাঁরা কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি কাছ থেকে বুঝতে পেরেছিলেন। ধান কাটার পর অল্প সময়ের মধ্যে পরবর্তী ফসলের জন্য জমি প্রস্তুত করতে হয় কৃষকদের। আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই জমিতে পড়ে থাকা খড় পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই সমস্যার বিকল্প খুঁজতে নিজেদের প্রকৌশলগত দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন দুই উদ্যোগপতি। ২০২০ সালে নিজেদের সঞ্চয় বিনিয়োগ করে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন ‘ধারাক্ষা ইকোসলিউশনস’। পরবর্তীতে সংস্থাটিতে বিনিয়োগ করেন জেরোধার সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিতিন কামাথ এবং মেকমাইট্রিপের প্রাক্তন নির্বাহী অংশুমান বাপনার মতো বিনিয়োগকারীরাও। ‘ধারা’ অর্থ পৃথিবী এবং ‘রক্ষা’ অর্থ সুরক্ষা—এই দুই হিন্দি শব্দের সমন্বয়েই সংস্থার নামকরণ (Success Story)।
আরও পড়ুন: আরও মজবুত হবে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক! চলতি সপ্তাহেই ভারতে আসছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও
সংস্থাটির প্রযুক্তির মূল উপাদান হল মাশরুমের শিকড়ের মতো বিস্তৃত জালিকা, যা মাইসেলিয়াম নামে পরিচিত। এই মাইসেলিয়াম ব্যবহার করেই খড়ের আঁশকে একসঙ্গে জুড়ে মজবুত প্যাকেজিং সামগ্রী তৈরি করা হয়। প্রথমে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রাহকদের মাধ্যমে খড় সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেই খড় ছোট ছোট টুকরো করে কেটে ভাপে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তাতে বিশেষভাবে তৈরি মাশরুম মাইসেলিয়াম মিশিয়ে নির্দিষ্ট ছাঁচে রাখা হয়। মাইসেলিয়ামের জালিকা ধীরে ধীরে খড়ের আঁশগুলিকে বেঁধে একটি শক্ত কাঠামো তৈরি করে। গোটা প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ দিন সময় লাগে। বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য মাশরুমের প্রজাতিগুলি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল না মেলায় সংস্থাটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি প্রজাতিও তৈরি করেছে।
ধারাক্ষার তৈরি এই প্যাকেজিং সামগ্রী পরিবহণের সময় কার্ডবোর্ডের বাক্সের ভিতরে পণ্য সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহৃত থার্মোকলের বিকল্প হিসেবে কাজে লাগতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন আকার ও নকশায় এই উপাদান তৈরি করা যায়। সংস্থার দাবি, সাধারণ পরিবেশে এটি প্রায় ৬০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ পচে যেতে পারে। অন্যদিকে, যথাযথ পরিস্থিতিতে সংরক্ষণ করলে এর স্থায়িত্ব তিন বছরেরও বেশি হতে পারে। উপাদানটির আর্দ্রতা ও তাপ প্রতিরোধের বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, অগ্নি প্রতিরোধ এবং অ্যান্টি-স্ট্যাটিক বৈশিষ্ট্যের কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। ফলে পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর থার্মোকলের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পণ্য মোড়কবন্দি করার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: ভারতের চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর! ২০২৭-এ লাফিয়ে বাড়তে পারে বেতন, রিপোর্টে এল চমকপ্রদ তথ্য
ব্যবসার প্রসারের পাশাপাশি কৃষি বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর সমস্যা কমানোই সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য। সেই কারণে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার যেসব জেলায় নাড়া পোড়ানোর প্রবণতা বেশি, সেখানেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মরশুমে ২৫০ একরেরও বেশি জমি থেকে প্রায় ৭৫০ টন ফসলের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করেছিল সংস্থাটি। প্যাকেজিং সামগ্রীর আকার ও নকশা অনুযায়ী দাম নির্ধারিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, এই উপাদানে তৈরি ছয় ইঞ্চির একটি ছোট পাত্রের দাম প্রায় ৩০ টাকা। সাধারণ কাচের জারের প্যাকেজিংয়ের খরচ প্রায় ১০ টাকা থেকে শুরু হতে পারে, আর বড় আকারের পণ্যের ক্ষেত্রে তা ২৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। কৃষিজ বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরি এবং বাণিজ্যিক সাফল্য—দুই লক্ষ্যকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে আনন্দ বোধ ও অর্পিত ধূপারের এই উদ্যোগ (Success Story)।














