বাংলা হান্ট ডেস্ক: পেট্রোলে ইতিমধ্যেই ইথানল ব্লেন্ডিং চালু হয়েছে। যে বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে বারংবার উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যদিও, এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, এবার রান্নার গ্যাসেও ব্লেন্ডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বাড়িতে সরবরাহ করা PNG (Piped Natural Gas)-তে এবার ৫ শতাংশ পর্যন্ত হাইড্রোজেন যোগ করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস রেগুলেটরি বোর্ড তথা PNGRB (Petroleum and Natural Gas Regulatory Board) এই উদ্দেশ্যে খসড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর ভারতের (India) নির্ভরতা কমানো। তবে, হাইড্রোজেন যুক্ত করলে গ্যাসের খরচ বাড়তে পারে এবং পাইপলাইন নেটওয়ার্কে নিরাপত্তাজনিত পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে। এমতাবস্থায়, PNGRB এই প্রস্তাবিত নিয়মগুলির বিষয়ে ১১ নভেম্বরের মধ্যে পরামর্শ ও মতামত চেয়েছে। একবার বিধি চূড়ান্ত হয়ে গেলে এবং প্রয়োজনীয় আইনি বিধান প্রণীত হলে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্যবস্থাটি বাস্তবায়ন করতে আনুমানিক ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগতে পারে।
PNG (Piped Natural Gas)-তে ৫ শতাংশ হাইড্রোজেন মেশানোর প্রস্তুতি:
PNG-র দাম কত বাড়বে: জানিয়ে রাখি যে, PNG-তে হাইড্রোজেন মিশ্রণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এর খরচ। সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে নির্ধারিত গ্রিন হাইড্রোজেনের দাম, GST সহ প্রতি কেজি প্রায় ৩৮৭ থেকে ৩৯৭ টাকা। এদিকে, ২০২৬-এর অক্টোবরের জন্য ঘরোয়া প্রাকৃতিক গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (MMBtu)-এ প্রায় ১,০৬৭ টাকা বিশ্লেষকদের মতে, সমতুল্য শক্তি ব্যবহারের ভিত্তিতে গ্রিন হাইড্রোজেনের খরচ প্রতি MMBtu-তে প্রায় ২,৮৮০ থেকে ২,৯৫০ টাকা। এটি প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্তমান বেঞ্চমার্ক মূল্যের প্রায় ২.৭ গুণ। দিল্লির ঘরোয়া গ্রাহকরা বর্তমানে PNG-র জন্য প্রতি স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার (SCM) ৫০.৫৯ TAKA পরিশোধ করেন। হাইড্রোজেন সংযোজনের কারণে মোট খরচ বৃদ্ধি নির্ভর করবে সংস্থাগুলি এই অতিরিক্ত ব্যয় নিজেরা বহন করবে নাকি গ্রাহকদের ওপর তা চাপিয়ে দেবে, তার ওপর।

সংস্থাগুলির খরচ বাড়বে: বিদ্যমান গ্যাস নেটওয়ার্কে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করতে পাইপলাইন, সরঞ্জাম এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা পরিদর্শন করতে হবে। প্রয়োজনে এগুললিতে পরিবর্তনও আনতে হতে পারে। ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস লিমিটেড (IGL), মহানগর গ্যাস লিমিটেড (MGL) এবং GAIL-এর মতো সংস্থাগুলিকে নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করতে হতে পারে। এদিকে, এই বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের কারণে LNG মূল্যের ওঠানামায় সিটি গ্যাস কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস লিমিটেডের নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ কমে ২৩৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এদিকে, মহানগর গ্যাস লিমিটেডের কনসোলিডেটেড নিট মুনাফা ৩৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৯৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: বিনিয়োগকারীদের জন্য দীপাবলির উপহার মুকেশ আম্বানির! ২১ অক্টোবর খুলছে ভারতের সবথেকে বড় IPO
নিরাপত্তাও আবশ্যক: উল্লেখ্য যে, হাইড্রোজেন একটি অত্যন্ত দাহ্য গ্যাস। এর ব্যবহারে আগুন ও বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই, PNGRB ড্রাফট নিয়মে সংস্থাগুলির জন্য একাধিক নিরাপত্তা বিধান রেখেছে।
হাইড্রোজেন মিশ্রণের অনুমতিপ্রার্থী সংস্থাগুলিকে তাদের আবেদনের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে একটি বিশদ সুরক্ষা রিপোর্ট থেকে শুরু করে, সরঞ্জাম এবং বিলিং সিস্টেমের সহজলভ্যতার সংক্রান্ত নথি ও নেটওয়ার্কের স্থিতির মূল্যায়ন এবং পাইপলাইন সংক্রান্ত নথি জমা দিতে হবে। এছাড়াও, তাদের একটি স্বাধীন কারিগরি সংস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও পরিচালনগত প্রস্তুতি পর্যালোচনার সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়াও, কাজ শুরু করার আগে সকল প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ অনুমতি এবং নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।














