বাংলাহান্ট ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা তথা আমির খানের (Amir Khan) ভাগ্নে ইমরান খানকে (Imran Khan) ভারত (India) ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ ফরেন রেজিস্ট্রেশন অফিস। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই নির্দেশ মেনে নেওয়ার পরিবর্তে আইনি পথে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেতা। এফআরও-র নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন তিনি। নোটিশ জারির খবর প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইমরানের আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়। তাঁর আইনজীবীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফলে অভিনেতার বিরুদ্ধে জারি হওয়া এই নির্দেশ ঘিরে আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
ভারত ছাড়ার নোটিস জারি হতেই আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অভিনেতা ইমরান খানের (Imran Khan):
এফআরও-র নোটিশে বলা হয়েছে, অভিবাসন ও বিদেশি সংক্রান্ত আইন, ২০২৫ এবং তার অধীনে প্রণীত বিধি ও নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে ইমরানকে (Imran Khan) এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারত না ছাড়লে তাঁর বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক আইনি বিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ, ২৮ অক্টোবরের সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও তিনি দেশে থাকলে নতুন করে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারেন। তবে অভিনেতা এই নোটিশকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ভর করবে মামলার অগ্রগতি এবং আদালতের সিদ্ধান্তের উপর।
আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে ডিজেলের সঙ্কট! উৎসবের মরসুমে ফের বাড়বে দাম? নতুন রিপোর্টে বাড়ছে চিন্তা
ইমরান খান বলিউডের পরিচিত মুখ হলেও, তিনি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। সম্প্রতি মুম্বইয়ে একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভে তাঁর অংশগ্রহণের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। গত ১০ অক্টোবর দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেতা। তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থনে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি বলে জানা গিয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন মুম্বই পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল। যদিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পরেই তাঁর নাগরিকত্ব এবং ভারতে থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন সামনে আসে। তবে বিক্ষোভে অংশগ্রহণের সঙ্গে এফআরও-র নোটিশের আইনি ভিত্তির সম্পর্ক কী, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
১৫ অক্টোবর সকালে ইমরানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার খবর সামনে আসে। নোটিশে উল্লেখ করা অভিযোগ এবং নির্ধারিত সময়সীমা ঘিরে বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় উঠে আসে। অভিনেতার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই নির্দেশের বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন জানানো হবে। আদালতে আবেদনের মাধ্যমে নোটিশের বৈধতা ও প্রযোজ্য আইনি বিধান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত মামলার শুনানি বা আদালতের কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। তাই এই মুহূর্তে ইমরানকে দেশ ছাড়তেই হবে, নাকি আদালতের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: জন্ম হায়দারাবাদে! মাত্র ৭৬০ টাকা নিয়ে যান বিদেশে, আজ তিনিই কিনছেন IDBI ব্যাঙ্ক
অন্যদিকে, আইনি বিতর্কের মধ্যেই অভিনয়জগতে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন ইমরান (Imran Khan)। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কাট্টি বাট্টি’-র পর দীর্ঘ সময় তাঁকে আর কোনও ছবিতে প্রধান চরিত্রে দেখা যায়নি। প্রায় ১১ বছর পর ‘আধুরে হাম আধুরে তুম’ ছবির মাধ্যমে পর্দায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর। জানা গিয়েছে, ছবিটি আগামী ১৮ ডিসেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা। ফলে একদিকে ভারতে থাকার অনুমতি নিয়ে আইনি লড়াই, অন্যদিকে দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফেরার অপেক্ষা—দুই বিষয়েই এখন ইমরান খানকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এফআরও-র নোটিশ নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই আপাতত তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।














