বাংলাহান্ট ডেস্ক: হায়দরাবাদের (Hyderabad) এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে কানাডার আর্থিক দুনিয়ায় সফলভাবে (Success Story) নিজের জায়গা করে নিয়েছেন প্রেম ওয়াটসা। তাঁর জীবনের শুরুর দিকের একটি গল্প আজও বহুল চর্চিত। কথিত আছে, কানাডায় পা রাখার সময় তাঁর পকেটে ছিল মাত্র ৮ ডলার। সেই সামান্য অর্থ নিয়ে বিদেশে নতুন জীবন শুরু করা থেকে আজ বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠা—প্রেমের এই যাত্রা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। বর্তমানে তিনি কানাডার অন্যতম পরিচিত বিনিয়োগ সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান ও সিইও। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের কৌশলের জন্য তাঁকে প্রায়ই ‘কানাডার ওয়ারেন বাফেট’ বলা হয়। এ বার ভারতের আইডিবিআই ব্যাঙ্ক (IDBI Bank) অধিগ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁর সংস্থার নাম উঠে আসায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের।
প্রেম ওয়াটসার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
১৯৫০ সালের ৫ অগস্ট হায়দরাবাদে জন্ম প্রেম ওয়াটসার। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী প্রেম ১৯৭১ সালে আইআইটি মাদ্রাজ থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হন। উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের নতুন সুযোগের সন্ধানে এর পর তিনি কানাডায় পাড়ি দেন। সেখানে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্টার্ন অন্টারিও থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। বিদেশের মাটিতে নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ ছিল না। তবে ধীরে ধীরে আর্থিক ক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকেন তিনি। ১৯৭৪ সালে কনফেডারেশন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন প্রেম। সেখানেই বিনিয়োগ, শেয়ার বাজার এবং আর্থিক সংস্থার কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর ব্যবসায়িক জীবনের ভিত গড়ে দেয় (Success Story)।
আরও পড়ুন: ষষ্ঠী থেকেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাট! পর্যটকদের জন্য জোর ধাক্কা
১৯৮৫ সালে নিজের সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংস প্রতিষ্ঠা করেন প্রেম। তাঁর বিনিয়োগের ধরন ছিল দীর্ঘমেয়াদি। কোনও সংস্থার সাময়িক জনপ্রিয়তার চেয়ে তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, আর্থিক ভিত্তি এবং সময়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠার ক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিতেন তিনি। এই পদ্ধতির সঙ্গে মার্কিন বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের ভ্যালু ইনভেস্টিংয়ের মিল রয়েছে। সেই কারণেই প্রেম ওয়াটসার নামের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে ‘কানাডার ওয়ারেন বাফেট’ পরিচিতি। ফেয়ারফ্যাক্সের ব্যবসা শুধু কানাডাতেই সীমাবদ্ধ নয়, ভারতেও রয়েছে তাদের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ। কেরালার সিএসবি ব্যাঙ্কে সংস্থাটির বড় অংশীদারি রয়েছে। এ ছাড়া আইআইএফএল ক্যাপিটাল এবং বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সম্পর্কিত ব্যবসাতেও ফেয়ারফ্যাক্সের বিনিয়োগ রয়েছে।
এ বার আইডিবিআই ব্যাঙ্ক অধিগ্রহণের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে ফের শিরোনামে প্রেম ওয়াটসা। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত সরকারের অনুমোদন পেয়েছে এই অধিগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংস। ব্যাঙ্কটির মূল্য প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সরকারি অনুমোদন পাওয়া এবং অধিগ্রহণের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। লেনদেনের চূড়ান্ত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো প্রয়োজন। আইডিবিআই ব্যাঙ্কের মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বদলের সম্ভাবনা তাই শুধু প্রেমের ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, ভারতের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: স্মার্ট মিটার বসিয়েও আসছে বেশি বিল? অভিযোগ জানানোর সহজ উপায় জানুন
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, প্রেম ওয়াটসার মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ২.৬ বিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৪,৮০০ কোটি টাকা। অবশ্য শেয়ার বাজারের ওঠানামা এবং বিনিয়োগের মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর সম্পদের হিসাবও বদলাতে পারে। আর্থিক জগতে সাফল্যের পাশাপাশি ভারত-কানাডা ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেছে। একসময় সামান্য অর্থ নিয়ে কানাডায় নতুন জীবন শুরু করার যে কাহিনি তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে, আজ বিপুল বিনিয়োগ সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব সেই গল্পকে আরও পরিচিত করেছে। আইডিবিআই ব্যাঙ্ক অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়, এখন নজর সেদিকেই (Success Story)।














